, ,

শিরোনাম :

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক ::

বরগুনার তালতলীতে মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য বিভাগকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় এক সংবাদকর্মীর ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছে স্থানীয় কিছু অসৎ জেলে। তাঁদের অভিযানে ওই এলাকস থেকে তিনটি জাল জব্দ হওয়ার পর দৈনিক আজকের আওয়াজ পত্রিকার তালতলী উপজেলা প্রতিনিধি মমিন আকনের কাছে ১০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং তাঁর ওষুধের দোকানে (ফার্মেসি) তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এই সংবাদকর্মী।

ঘটনাটি ঘটেছে তালতলী উপজেলার ২ নম্বর ছোটবগী ইউনিয়নের বগীর হাট খেয়াঘাটসংলগ্ন পায়রা নদী এলাকায়। তবে অভিযুক্ত জেলেদের দাবি ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, মমিন আকন টাকা নিয়ে তাঁদের নদীতে জাল ফেলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন এবং পরে তিনিই আবার মৎস্য বিভাগকে দিয়ে সেসব জাল জব্দ করিয়েছেন। যদিও জেলেদের এই দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মমিন আকন। তিনি জানান, দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি অবৈধভাবে জাল ফেলার প্রতিবাদ করেছিলেন এবং মৎস্য বিভাগের অভিযানে সহায়তা করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়েই মো:জহির খান, এর নেতৃত্বে হাচান, ওয়ারেচ খান, স্বপন,সোহেল হাওলাদার,
কালাম সহ অনন্য জেলেরা তাঁর ফার্মেসিতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ হওয়া জালের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করার পাশাপাশি তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, অভিযানে মমিন আকন তাঁদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। এবং ওই এলাকা থেকে তিনটি জাল সহ মোট পাচটি জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ নিশ্চিত করে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয় এবং মমিন আকনকে উদ্ধার করে নিরাপদে তালতলীতে নিয়ে আসা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, সংবাদকর্মী মমিন আকন মৎস্যসম্পদ রক্ষার স্বার্থেই প্রশাসনকে অবৈধ জাল ফেলার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। পরে পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলানোর বিষয়ে আইনি সহায়তা চাওয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মা ইলিশ সংরক্ষণের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে সরকারি কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে গিয়ে একজন সংবাদকর্মীর হুমকির মুখে পড়া এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net