শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:০৫

শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধু উদ্যানে অদ্ভুত চাঁদাবাজি, নেপথ্যে মাদকের আগ্রাসন!

বঙ্গবন্ধু উদ্যানে অদ্ভুত চাঁদাবাজি, নেপথ্যে মাদকের আগ্রাসন!

dynamic-sidebar

শফিক মুন্সি : বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী বঙ্গবন্ধু উদ্যানে (বেলস পার্ক) দিনে দুপুরে চলে চাঁদাবাজি। পার্কটির পার্শ্ববর্তী পলাশপুর এবং স্টিমারঘাট এলাকার বস্তিতে বসবাসরত ছোট ছোট কিশোর-কিশোরী ভিক্ষাবৃত্তির নামে সেখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে এই চাঁদা আদায় করে। পার্কের নিরাপত্তায় নিয়োজিত দায়িত্বশীলদের নাকের ডগায় চলতে থাকা এই চাঁদাবাজির পিছনে আছে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন। অনেকের ধারণা এই চাঁদাবাজির একটি অংশ নিরাপত্তা প্রহরীদের পকেটেও যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কিশোর – কিশোরীরা পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের বিশেষ করে নারীদের কাছে বিভিন্নভাবে টাকার জন্য জোরাজোরি করে। এমনকি টাকা আদায়ের জন্য যেকোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতেও তারা বিলম্ব করে না। এমনই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান জানান, ” এখানে দিনের যেকোনো সময়ে ঘুরতে আসলেই দেখা যায় চক্রবদ্ধ বাচ্চারা এসে টাকার জন্য হাতে-পায়ে ধরে। এমনকি টাকা না দেওয়া পর্যন্ত ওরা পথ আগলে রাখে কিংবা বিরক্ত করা অব্যাহত রাখে। লেখাপড়া করার বয়সে ওদের এমন আচরণ ও অভ্যাস বেশ দৃষ্টিকটু। ”

পার্কটিতে নিয়মিত শরীর চর্চা করতে আসা মানুষদের সঙ্গে কথা বলে আরো ভয়াবহ তথ্য পাওয়া যায়। এসব শিশু – কিশোরদের বেশিরভাগই পার্শ্ববর্তী বস্তিগুলোর মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত। এমনকি প্রতিদিন দর্শনার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের বিরাট অংশ তারা ব্যায় করে প্যাথেড্রিন, ডেন্ডি, গাঁজা এবং ইয়াবা নামক মাদক গ্রহণে। সন্ধ্যার পর মাদক কেনা-বেচা এবং পরিবহনেও তারা যুক্ত হয়। শৈশব – কৈশোরেই মাদকের কড়াল গ্রাসে পড়া এসব ছেলে – মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই দুঃখ প্রকাশ করেন। এমনকি প্রশাসনের নজরদারীর অভাবকেও পার্কের দর্শনার্থীরা ভৎসনা করেন।

নগরীতে বেড়ে ওঠা এসব ছিন্নমূল শিশুদের বিপথগামীতা সচেতন নাগরিকদেরও ব্যাথিত করেছে। বিশিষ্ট চিকিৎসক ও গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব ডাঃ শিরীন সাবিহা তন্বী এ ব্যাপারে বলেন, ” দর্শনার্থীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলাটা অবশ্যই অপরাধের। তবে এই অপরাধের পিছনে থাকা কারণগুলো আরো ভয়ংকর। শিশু বয়সেই যে ভয়ংকর জীবনের অধিকারী বাচ্চাগুলো হয়েছে তার দায়ভার রাষ্ট্র এবং স্থানীয় প্রশাসন কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। ”

নগরীর সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে বেলস পার্কে চাঁদাবাজি করা এসব শিশুদের ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবার ব্যাপারে দাবি উঠেছে। তাদের মতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রশাসন যদি একত্রে এই ব্যাপারে নিজ নিজ জায়গা থেকে কিছু করে তবে এসব বিপথগামী ছেলে – মেয়েরা একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ পেতে পারে। বিশিষ্ট উন্নয়ন কর্মী ও ম্যাপ এর নির্বাহী পরিচালক শুভংকর চক্রবর্তীর মতে, ” এসব পথ শিশুরা আমাদেরই সন্তান কিন্তু তারা পরিস্থিতির শিকার। এদের জীবন মান উন্নয়নে সংবেদনশীল নাগরিক সমাজের পাশাপাশি প্রশাসনকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ”

এছাড়াও সংশ্লিষ্ট সবার মতে দ্রুত এই চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনাস্থা ও বিরূপ মনোভাব প্রকাশ পাবে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net