শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:০৬

শিরোনাম :
বিসিসি’র যানবাহন শাখার বিরুদ্বে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

বিসিসি’র যানবাহন শাখার বিরুদ্বে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

dynamic-sidebar

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) যানবাহন শাখা থ্রি-হুইলার যানবাহন নিবন্ধন, নবায়নে বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হলুদ ইজিবাইক রেজিস্ট্র্রেশন, নবায়ন এবং নাম পরিবর্তন ও হারিয়ে যাওয়া ব্লু বুক নতুন করে তুলতে যাওয়া মালিকদের কাছ থেকে এ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে প্রতিটি ইজিবাইক নবায়নে ৭৩০ টাকা এবং নাম পরিবর্তন ও হারিয়ে যাওয়া ব্লু বুক তোলা বাবদ ১ হাজার ১৫০ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। বছরের পর বছর যানবাহন শাখায় এ অনিয়ম চলছে।

বিসিসির যানবাহন শাখা সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে নিবন্ধিত হলুদ ইজিবাইক ছিল ২ হাজার ৬১০টি। বিভিন্ন সময় অভিযানে ৫২৯টি ইজিবাইক জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। বর্তমানে ইজিবাইকের সংখ্যা ২ হাজার ৮১টি। প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে এক বছরের জন্য ওই যানবাহন সিটি করপোরেশনে নবায়ন করতে হয়। এ জন্য গাড়িপ্রতি নেওয়া হয় সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

তবে এ শাখার একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, নবায়নে প্রকৃত ব্যয় হয় ৩ হাজার ৮৭০ টাকা। যার মধ্যে বিসিসিতে জমা হয় ৩ হাজার টাকা ও ভ্যাট বাবদ নেওয়া হয় ৪৫০ টাকা। অন্যান্য খরচের মধ্যে আছে আবেদনপত্র মূল্য ১০০ টাকা, স্ট্যাম্প কেনা ১৭০ টাকা, স্ট্যাম্প প্রিন্ট ২০ টাকা এবং নোটারি পাবলিক বাবদ ব্যয় ৩০ টাকা। এভাবে প্রতিটি গাড়ি নবায়নে অতিরিক্ত নেওয়া হয় ৭৩০ টাকা। যানবাহন শাখার কর্মচারীরা এক বছরে ২০৮১টি ইজিবাইক নবায়নে মালিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন ১ কোটি ৫ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

এ ছাড়া ইজিবাইক বিক্রি হলে মালিকানা বদল এবং হারিয়ে যাওয়া ব্লু বুক নতুন করে তুলতে নেওয়া হয় ৭ হাজার টাকা। যানবাহন শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ ক্ষেত্রে প্রকৃত ব্যয় হলো- বিসিসির কোষাগারে ৫ হাজার টাকা এবং ভ্যাট বাবদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা ৭৫০ টাকা। এ ছাড়া আবেদন ফরম বাবদ নেওয়া হয় ১০০ টাকা। অবশিষ্ট ১ হাজার ১৫০ টাকা আত্মসাৎ করেন সংশ্নিষ্ট কর্মচারীরা।

সূত্র আরও জানায়, বিসিসির দ্বিতীয় মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরনের সময় ইজিবাইক নবায়নে ৪ হাজার ৩৩০ টাকা আদায়ের একটি রেজুলেশন করা হয়েছে। এতে ব্যয়ের খাতে বিসিসির ৩ হাজার জমায় ১৫ ভাগ হারে ভ্যাট দেখানো হয়েছে ৫৫০ টাকা। তবে প্রকৃত ভ্যাট ৪৫০ টাকা। অন্যান্য ব্যয় দেখানো হয়েছে ব্লু বুক বাবদ ১০০ টাকা, স্ট্যাম্প মূল্য ১৮০ টাকা, স্টাম্প প্রিন্ট ১০০, নোটারি পাবলিক ব্যয় ৩০০ টাকা।

সূত্র জানায়, একবার বরাদ্দ হওয়া ব্লু বুকে পাঁচ বছর নবায়ন করার পাতা রয়েছে। তারপরও প্রতি বছর ব্লু বুক বাবদ ১০০ টাকা নেওয়া হয়। স্ট্যাম্প প্রিন্ট করা হয় অফিসের কম্পিউটারেই। কয়েকশ স্ট্যাম্পে একসঙ্গে ঠিকা চুক্তিতে প্রতিটি ৩০ টাকা হারে নোটারি পাবলিক অ্যাডভোকেটের সিল স্বাক্ষর আনা হয়।

নগরীর ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, চলতি বছর একটি ইজিবাইকের নবায়ন করতে তার কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে নবায়নের প্রকৃত ব্যয় যে এর থেকে কম, তা জানেন না তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বিসিসির যানবাহন শাখার তত্ত্বাবধায়ক মাইনুল হোসেনের মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি তা কেটে দেন। পরে আর কল রিসিভ করেননি। আর বিসিসির রাজস্ব শাখার প্রধান সচিব মো. ইসরাইল হোসেনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সূত্র,  সমকাল

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net