স্টাফ রিপোর্টার : বরিশালের বাবুগঞ্জে রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ছাত্রাবাস থেকে মাহাথির মোহাম্মদ বিন ফরিদ (১৭) নামে দ্বিতীয় সেমিস্টারের এক ছাত্রকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ গোলাম মো. ইদ্রিস ও নিখোঁজ ছাত্রের বাবা মো. ফরিদ উদ্দিন নগরের এয়ারপোর্ট থানায় পৃথক দু’টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এয়ারপোর্ট থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অরবিন্দ বিশ্বাস বুধবার (৩ জুলাই) বাংলানিউজকে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই ছাত্রের সন্ধানে আমাদের কার্যক্রম চলছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে সময় ঘটনায় সে সময় আমাদের থানা এলাকার আওতাধীন ঘটনাস্থলে কোনো অভিযানের খবর ছিলো না। তাছাড়া ঘটনার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ইউনিটই মাহাথিরকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেনি।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব উল আলম বলেন, এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান আমাদের চলমান রয়েছে। আর রেঞ্জ ডিআইজি শফিকুল ইসলামও বলছেন, তিনি এ ধরনের কোনো বিষয়ে অবগত নন।
গত মঙ্গলবার (২ জুলাই) কৃষি প্রশিক্ষণ ইনিষ্টিটিউটের অধ্যক্ষ গোলাম মো. ইদ্রিসের জিডি সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১ জুলাই) ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে ৭-৮ জন লোক নিজেদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেটে দায়িত্বরত নুরুল ইসলামকে তালা খুলতে ধমক দেন। তিনি ভয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই গেট খুলে দেন।
এর ওই লোকেরা ছাত্রাবাসে গিয়ে ২০৬ নম্বর কক্ষ থেকে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মাহাথির মোহাম্মদ বিন ফরিদকে ধরে তাদের সঙ্গে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি কলেজ অধ্যক্ষকে অবহিত করা হলে তিনি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনার সত্যতা পেয়ে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
মাহাথির মোহাম্মদের বাবা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠি এলাকার বাসিন্দা মো. ফরিদ উদ্দিনের জিডি সূত্রে জানা যায়, ১ জুলাই ভোর থেকে তার ছেলের সন্ধান ছাত্রাবাসে পাওয়া যাচ্ছিলো না। সম্ভাব্য সব যায়গায় খোঁজ-খবর নিয়ে ছেলের সন্ধান না পেয়ে তিনি থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং সাধারণ ডায়েরি করেন।
মাহাথির মোহাম্মদের বাবা মো. ফরিদ উদ্দিন বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত থাকায় তার সেখানে যাতায়াত ছিলো বলে জানা গেছে।
ফরিদ উদ্দিন বলেন, মাহাথিরের কলেজ থেকে জানতে পেরে আমি বরগুনা থেকে সড়কপথে বরিশালে যাই। এরপর পুরো বিষয় জানতে পেরে এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। সেখান থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাকে সর্বোচ্চ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ছেলের সন্ধান এখনো পাইনি।
তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সময় ২০১৮ সালে ৩ মাসের মধ্যে জন্য বরগুনায় ছিলো মাহাথির। এরপর এসএসসি পাশ করে রহমতপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়। আমি চাকরির কারণে বরগুনায়, আর পরিবার গ্রামের বাড়ি আশোকাঠিতে থাকায় মাহাথির বরিশালে কলেজের হোস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করছিলো। আগামী ৮ জুলাই তার দ্বিতীয় সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। এর মধ্যে সে নিখোঁজ।
ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখেন, জীবনে কোনো দুর্নীতি করিনি, কাউকে কষ্ট দেইনি। আমার একমাত্র ছেলেকে ফিরেয়ে দিন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply