বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চরগোপালপুর ও আলিমাবাদ ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অসংখ্য বসতঘর ও দোকান। ভাঙন অব্যাহত থাকায় লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের জনবসতি হুমকির মুখে পড়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাঙনপ্রবণ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগ ও সমস্যার কথা শোনেন।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চরগোপালপুর ইউনিয়নে গত তিন থেকে চার দিনে সৈয়দ মাস্টার বাড়ির পাঁচটি, নীলগাজি বাড়ির আটটি, রাড়ি বাড়ির সাতটি, তালুকদার বাড়ির চারটি, বেপারী বাড়ির তিনটি, ধোপাবাড়ির পানির বরজসহ দুটি, মাধবপুর বাড়ির চারটি এবং গণি রাড়ি বাড়ির আটটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সময়ে ঢোলের হাট বাজারের প্রায় ১৫ থেকে ৩০টি দোকানও নদীভাঙনের শিকার হয়েছে।
ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে এ এলাকায় প্রায় এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। তবে তা নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারেনি। এখন পর্যন্ত এ এলাকায় কোনো ব্লক স্থাপন করা হয়নি।
বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল বারী মনির, আলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং দুই ইউনিয়নের ইউপি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময়কালে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নদীভাঙন চলাকালে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর মূল্যবান সম্পদ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। এ জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, নদীর পানি ও স্রোত কমে পরিস্থিতি শান্ত হলে শুষ্ক মৌসুমে, বিশেষ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
খলিল আহমেদ আরও বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জাল সরবরাহ করা হয়েছে।
চরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বিভাগীয় কমিশনার। তিনি বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের পতিত জমিতে স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে তরমুজসহ উপযোগী ফসল চাষের আহ্বান জানান। জমি লিজ না দিয়ে স্থানীয়রা নিজেরা চাষাবাদ করলে তাদের আয় ও স্বাবলম্বিতা বাড়বে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় তিনি নদীভাঙনসহ স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
Leave a Reply