অনলাইন ডেস্ক : বিআরটিএর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিমিটেডের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আগামী মঙ্গলবার থেকে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ যেসব জেলায় প্রতিষ্ঠানটির জনবল কর্মরত আছে, তাদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। জনবল প্রত্যাহার হলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারীদের ছবি তোলা এবং আঙুলের ছাপ নেওয়াও বন্ধ হয়ে যাবে। গত বৃহস্পতিবার টাইগার আইটির ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের ব্যবস্থাপক এ এইচ এম রাশেদ সারোয়ার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিআরটিএকে এই কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। টাইগার আইটির হঠাৎ এ ঘোষণায় বিপাকে পড়েছে বিআরটিএ।
১৫ লাখ স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহের জন্য বিআরটিএর সঙ্গে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৩ জুন দ্বিতীয় দফায় চুক্তিবদ্ধ হয় টাইগার আইটি বাংলাদেশ লিমিটেড। চুক্তি অনুসারে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ১৩ লাখ ৮৪ হাজার স্মার্ট কার্ড সরবরাহ করেছে। বাকি এক লাখ ১৬ হাজার স্মার্ট কার্ড দ্রুত সময়ের মধ্যে সরবরাহের লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ড্রাইভিং লাইসেন্সের তীব্র সংকটে বিআরটিএ প্রতিষ্ঠানটিকে চুক্তির অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ (সাড়ে চার লাখ) স্মার্ট কার্ড সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। তবে গত বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়নি। ফলে টাইগার আইটিকে অতিরিক্ত স্মার্ট কার্ড সরবরাহের কাজ দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ হিসেবে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের একটি কাজ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাংকের কালো তালিকাভুক্ত হয়েছে। ফলে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এ কাজ করাতে চায় সরকার। বিআরটিএ এ জন্য নতুন প্রস্তাব তৈরি করছে বলে কালের কণ্ঠকে জানান বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান।
গত বৃহস্পতিবার বিআরটিএকে দেওয়া চিঠিতে টাইগার আইটি বলেছে, ‘আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি ২০১৬ সালের ২৩ জুন সম্পাদিত চুক্তি আর বাড়ানো হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা ২৯ আগস্ট থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে আমাদের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন্ধ করতে যাচ্ছি।’
বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘোষণা অনুসারে টাইগার আইটির কার্যক্রম বন্ধ হলে জরুরি ভিত্তিতে গাড়ি চালানোর লাইসেন্সের জন্য চাকরিজীবী, বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত শিক্ষার্থী ও গাড়ি শ্রমিকরা বিপদে পড়বে। টাইগার আইটি ঢাকায় বিআরটিএর তিনটি কার্যালয়সহ চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, বগুড়া, দিনাজপুর, ময়মনসিংহসহ সংশ্লিষ্ট সব কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করে নেবে তাদের বায়োমেট্রিক অপারেটর, ব্যবস্থাপক, নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে।
বিআরটিএর একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, কাজ পাওয়ার জন্য কৌশল হিসেবে টাইগার আইটি এই চিঠি দিয়ে থাকতে পারে।
বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) লোকমান হোসেন মোল্লা গতকাল শুক্রবার বলেন,
‘চুক্তি অনুসারে টাইগার আইটি এভাবে হঠাৎ ঘোষণা দিয়ে কাজ বন্ধ করে দিতে পারে না। কারণ চুক্তিতেই বলা আছে, কাজ শেষ হলে অপারেশনাল সব কাজ বিআরটিএর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়াসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রযুক্তি আমাদের কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে। চুক্তি নবায়ন না-ও হতে পারে—এ আশঙ্কা থেকে দুই মাস আগেই বিআরটিএর পক্ষ থেকে দুটি কমিটি গঠন করা হয়। টাইগার আইটি তাতে সায় দেয়নি। তারা শান্তিপূর্ণভাবে চুক্তির শর্তানুসারে সব সিস্টেম বিআরটিএকে বুঝিয়ে দেবে বলে আশা করছি। না হয় প্রতিষ্ঠানটিকে কালো তালিকাভুক্ত করার সুপারিশ করা হবে।’
বর্তমানে রাজধানীসহ দেশজুড়ে গাড়ি চালানোর স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রায় সাড়ে আট লাখ লাইসেন্সপ্রার্থী বিভিন্ন প্রক্রিয়ার ফাঁদে ঘুরছে। শুধু মুদ্রণের জন্যই কেন্দ্রীয়ভাবে এক লাখ ৮০ হাজার লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply