নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি ক্রাইম ॥ বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট মোঃ মুনসুর আহমেদ বলেছেন, নৌকা মার্কা দেখলেই এমপি পঙ্কজ নাথের গা জ্বলে। তিনি ইতিপূর্বে ইউপি নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতার জোরে ৬জন নৌকা মার্কার প্রার্থীকে পরাজিত করেন।
আজ দুপুরে বরিশাল রিপোটার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং নেত্রীর জরিপ বিশ্লেষণ করে আমাকে পুনরায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রদান করে। সে মোতাবেক জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত নৌকা মার্কা প্রতীকের চিঠি আমাকে হস্তান্তর করা হয়। আমি মনোনয়ন পাওয়ার এমপি পংকজ নাথ খুশি হতে পারে নাই। এক্ষেত্রে আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করাতে মহান জাতীয় সংসদের দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তা জেনেও আমি তার সাথে কয়েকবার সাক্ষাত করেছি।আমার সাথে ভালো ব্যবহার করছেন প্রথমে তিনি। আমাকে দেখাতে রাতারাতি আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ হানিফ মিয়াকে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করিয়া লাঙ্গল প্রতীক এনে দেন এবং তিনি কারো সাথে আলাপ না করেই পুরুষ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা দেন। আর যারা ভাইস চেয়ারম্যান হতে চেয়েছিলেন তাদের যথাক্রমে একেএম মাহফুজুল আলম লিটন মশিউর রহমান পলাশ ও কে এম রফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে দাঁড়াতে পরামর্শ দেন এবং পৃথক পৃথকভাবে তিনজনকেই চেয়ারম্যান বানানোর আশ্বাস দেন। উক্ত আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
তিনি আরও বলেন, উল্লেখ্য যে তিনি সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও নেতৃবৃন্দকে ফোনের মাধ্যমে তার প্রার্থী উল্লেখ করেন এবং চেয়ারম্যান প্রার্থীকে এই কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলে দেন এটা পরে জানানো হবে।
মুনসুর আহমেদ বলেন, আমি মাননীয় সভানেত্রীর প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তিনি নেত্রীর আদেশ উপেক্ষা করলেন মনোনয়ন জমা দিন থেকেই তিনি আমার বিরোধিতা শুরু করেন। আমার এক সমর্থকের চায়ের দোকানে তালা মেরে দেওয়া হয়। আমি যে হুন্ডাই চরি সেই ড্রাইভারকে এবং স্পিডবোট ব্যবহার করেছি সেই ড্রাইভার দের কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। আমার সাথে যাওয়ার অভিযোগে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করা হয়।
বর্তমান এই উপজেলা চেয়ারম্যান আরও বলেন, এমপি পংকজ নাথের নির্দেশে সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নির্বাচনী খরচ বাবদ ১ কোটি টাকা এবং প্রশাসনিক খরচ আরো ৫০ লক্ষ টাকা জমা দিতে বলে। তিনি এতটাই নাটক বাজে প্রকাশ্যে আমার কথা বললেও গোপনে আমার চরমভাবে বিরোধিতা করেন। সকল নেতাকর্মীরদের ভাষ্য দাদাকে ম্যানেজ করেন তাইলে আমরা নেমে যাব। হাইব্রিড এবং সুবিধা ভোগী সকল নেতাকর্মী এমপি পংকজ নাথের অনুসারী, নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা আমার সাথে থাকলেও তাদের কিছুই করার নাই।
আওয়ামী লীগের মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, আমি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও আমার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করতে পারছিনা। আমি যাদের পোলিং এজেন্ট দেওয়ার তালিকা তৈরি করি তাদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং এলাকা থেকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে। তাই কেউ পুলিং এজেন্ট হওয়ার সাহস পাচ্ছেনা। বিদ্রোহী প্রার্থী মাহফুজুল আলম লিটন ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত, তিনি কিভাবে জনসভায় বলেন আমি এমপি পংকজ নাথের মনোনীত প্রার্থী আমাকে ভোট দিলে এমপি পংকজ নাথ কেও ভোট দেওয়া হবে।
সবশেষ তিনি বলেন, আমি এমপি পঙ্কজ নাথের এহেন কর্মকান্ড আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার দৃষ্টি গোচর করতে চাই।
সংবাদ সম্মলনে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply