শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১০:৫১

শিরোনাম :
হুমকির মুখে পানপট্টির মিনি কুয়াকাটা প্রয়াত সাংবাদিক মিরাজের স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত সহকর্মীরা প্রেমের ফাঁদে ফেলে সৌদিপ্রবাসীর ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলে তরুণী ববিতে সমকাল সুহৃদ সমাবেশের নতুন কমিটি, সভাপতি নিয়ন সম্পাদক শিমু বরিশালে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যুক্ত হয়ে ঝোপঝাড় পরিচ্ছন্নতা করলো ইউএনও বাবুগঞ্জে অ্যাম্বুলেন্স-প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৪ নতুন দায়িত্ব পেলেন উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বরিশাল গণপূর্ত অফিসের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ব্যয় ৬০০ টাকা, অর্থের জোগান নিয়ে ধোঁয়াশা

হুমকির মুখে পানপট্টির মিনি কুয়াকাটা

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক :

দখল ও দূষণের কারণে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আগুনমুখা নদীর মোহনায় অবস্থিত মিনি কুয়াকাটা খ্যাত পানপট্টি লঞ্চঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পর্যটকদের আনাগোনা বাড়লেও বেড়িবাঁধ দখল করে একের পর এক দোকানপাট নির্মাণ, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে নদীতীরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিনই বেড়িবাঁধের ওপর নির্মাণাধীন কংক্রিট ব্লকের জায়গা দখল করে বসানো হচ্ছে বিভিন্ন দোকান। কোথাও কোথাও দোকান নির্মাণের জন্য বেড়িবাঁধের সুরক্ষা ব্লকও সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে পর্যটন সম্ভাবনাময় এ এলাকার নান্দনিক পরিবেশ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকার চিত্র বদলে দিয়েছে নদীতীর রক্ষা প্রকল্প। আগুনমুখা নদীর বিশাল জলরাশি, শীতল বাতাস, ঢেউ আর মনোমুগ্ধকর সূর্যাস্ত দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত পর্যটক ছুটে আসেন এখানে। বিশেষ করে শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, নদীভাঙন রোধ ও তীর সংরক্ষণে ৫৫/১ পোল্ডারের ৪১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকায় ৫০০ মিটার অংশে কংক্রিট ব্লক স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে এলাকার চিত্র এবং স্থানীয় পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় স্থানটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটকদের ঘিরে নদীতীরে গড়ে উঠেছে চা-কফি, ফুচকা, চটপটি, ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান। এতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে পরিকল্পনাহীনভাবে দোকানপাট স্থাপন, ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে সৌন্দর্য হারাচ্ছে এলাকাটি। এছাড়া রয়েছে ওয়াশরুম সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও রাতের অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ।

পর্যটকদের অভিযোগ, বেড়িবাঁধের জায়গা দখল করে স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী দোকান নির্মাণে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এতে নদীর পাড়ের খোলা পরিবেশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে মারামারি, ইভটিজিংসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে পর্যটকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

পর্যটক নাজমা ইসলাম সিমলা বলেন, পানপট্টি লঞ্চঘাটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো। সঠিক পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এ জায়গার চিত্র পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। কিন্তু অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত দখলমুক্ত করে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আরেক পর্যটক মো. আজাদ বলেন, পানপট্টি লঞ্চঘাটে যেভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো দোকানপাট গড়ে উঠছে, তাতে মনে হচ্ছে কে কার আগে জায়গা দখল করবে সেই প্রতিযোগিতা চলছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে জায়গাটিকে পর্যটকদের উপযোগী করে তোলা।

স্থানীয়রা জানান, পানপট্টি লঞ্চঘাটকে আরও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এখানে বসার বেঞ্চ, ওয়াশরুম, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটে পরিণত হতে পারে। তবে দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা সেই সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রশাসন কাজ করছে। বেড়িবাঁধ বা সরকারি জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী অপসারণ করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, ইতোমধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে তিন দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা অপসারণ করা না হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net