শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৪৪

শিরোনাম :
বরিশালে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যুক্ত হয়ে ঝোপঝাড় পরিচ্ছন্নতা করলো ইউএনও বাবুগঞ্জে অ্যাম্বুলেন্স-প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত ৪ নতুন দায়িত্ব পেলেন উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বরিশাল গণপূর্ত অফিসের প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নভেম্বরে তুরস্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ড তৈরিতে ব্যয় ৬০০ টাকা, অর্থের জোগান নিয়ে ধোঁয়াশা বাউফলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ নান্দনিক স্থাপত্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার নতুন দায়িত্ব পেলেন দুই প্রতিমন্ত্রী বরিশালে দিনের অর্ধেক সময়ই থাকছে না বিদ্যুৎ
ভোলায় সাত বছরেই রশিতে বাঁধা কাওছারের জীবন

ভোলায় সাত বছরেই রশিতে বাঁধা কাওছারের জীবন

dynamic-sidebar

ভোলা প্রতিনিধি: মো. কাওছার হোসেন, বয়স সাত বছর। সবসময় মুখে হাসি লেগে থাকে তার। চেহারা দেখে বোঝার উপায় নেই সে অসুস্থ। প্রায় ৩ বছর আগে মৌমাছির কামড়ে আচরণগত পরিবর্তন ঘটে তার। বন্ধ হয়ে যায় কথা বলা। ভাঙতে শুরু করে ঘরের আসবাবপত্র। কাউকে না জানিয়ে চলে যায় দূরে কোথাও। তাই চোখে চোখে রাখতে রশিতে দিয়ে তার পা বেঁধে রাখেন মা।

শিশু কাওছার ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুলসুম বাগ গ্রামের দিনমজুর মো. আব্দুল আজিজের ছেলে।

আজিজ জানান, তার তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে কাওছার তৃতীয়। দিনমজুরের কাজ করে সংসার পরিচালনা করেন তিনি।

সংসারে অভাব থাকলেও শান্তিতে ছিলেন তারা। গত সাত বছর আগে জন্ম গ্রহণ করে কাওছার। সুন্দর চেহারা সঙ্গে মুখে ফুটফুটে হাসি লেগে থাকতো তার।

তিনবছর বয়সেই সব কথা বলতে পারতো। কিন্তু একদিন উঠানে খেলতে গেলে মৌমাছি কামড় দেয় কাওছারের মাথায়। এরপর থেকে তার অচরণগত পরিবর্তন ঘটে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।

এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। বিভিন্ন মানুষ ও স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে ছেলের চিকিৎসা খরচ জোগানো হয়। কিন্তু এরপরও কাওছার সুস্থ হয়নি।

কাওছারের মা খাদিজা বেগম বলেন, ‘ছেলেডা কথা কয় না। ছাইড়া রাখলে ঘরের সব ভাইঙালায়। আবার অনেক দূরেও চইলা যায়। জামা-কাপড় পরাইলে ছিঁড়া খুইলালায়। যার কারণে গত তিন বছর ধইরা ছেলেডারে রশি দিয়ে বাইন্দা রাখি।

এত ছোট পোলাডারে বাইন্দা রাখতে অনেক কষ্ট হয়। এরপরও কি করমু। টাকার লইগা চিকিৎসা করাইতে পারি না। ছেলেডার প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। টাকার অভাবে দুই মাস ধরে ওষুধও খাওয়াইতে পারি নাই।

চট্টগ্রামের এক ডাক্তার কইছে কাওছারের ভালো চিকিৎসা করালে আবারও সুস্থ হইবো। এতে দুই লাখ টাকা খরচ হইবো। এত টাকা কই পামু। কেউ যদি আমাগোরে সাহায্য করে তাইলে ছেলেডার চিকিৎসা করাইতে পারতাম।’

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল নোমান বলেন, বিষয়টি কেউ কখনো বলেনি।

এমনকি ছেলেটির বাবা-মাও কখন আমার কাছে আসেনি। তবে আমি খোঁজ নিচ্ছি। শিশুটির চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করবো।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net