খবর বরিশাল ডেস্ক ::
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের (আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠন) গোপন বৈঠক, ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নাশকতার পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৭ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আরও ৮ থেকে ১০ জন পালিয়ে গেলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
গত ২৫ অক্টোবর ২০২৫/২০২৬ (এজাহার অনুযায়ী) বিকেলে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিলগ্রাম উত্তরপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. পারভেজ আহমেদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৫ অক্টোবর বিকেলে গৌরনদী মডেল থানার একটি টিম এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা ডিউটিতে নিয়োজিত ছিল। গোপন সূত্রে পুলিশ জানতে পারে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কিছু সক্রিয় নেতাকর্মী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং আসন্ন ডিসেম্বর মাসে তাদের দলীয় প্রধানের দেশে প্রত্যাবর্তন সফল করার লক্ষে এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করার উদ্দেশ্যে গৌরনদীর বিলগ্রাম উত্তরপাড়া এলাকার একটি বসতঘরে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক হাসান রাসেলের নির্দেশক্রমে পুলিশি টিম তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে ৭ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে কয়েকজন সামান্য আহত হলে তাদের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পলাশ হাওলাদার (৩০), সাধারণ সম্পাদক, মহিলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ, শরিফাবাদ। ওয়াজ করনী (৫০), পৌর আওয়ামী লীগ সদস্য, তিখাসার। মো. মহিবুল আলম (৫৫), গৌরনদী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস/সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণ বিজয়পুর। মিঠুন হালদার (৩২), বাटাজোর ইউনিয়ন যুবলীগ সদস্য। মো. মাসুম সরদার (৩৯), গৌরনদী পৌরসভা ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি। মো. সজিব সরদার (২৯), পৌর ছাত্রলীগ সদস্য, তিখাসার। সলিল গুহ পিন্টু (৪৫), উপজেলা যুবলীগ সদস্য, বিলগ্রাম।
এছাড়াও এজাহারে সৈকত গুহ পিকলু (৫০), মনির হোসেন মিয়া (৫৫), ইকতিয়ার হাওলাদার (৫৪), মামুনুর রশিদ ওরফে মনু মোল্লা (৪০), মনির মীর (৪০), মেহেদী আকন (৩৮), জসিম মেম্বার (৩৮) এবং জোবায়ের ইসলাম ওরফে সন্টু ভূঁইয়া (৪০)-সহ অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পুনরায় সচল করা, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তারা ওই গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply