এক ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা আবাহনীর আবারও চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। আরো একটি ফুটবল ট্রফি আবাহনীর ঘরে। শেখ জামালকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক খেলা হাতে রেখেই গত মৌসুমে জয় করা প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ট্রফিটি ঘরেই রেখে দিল তারা। চ্যাম্পিয়ন দলের নাসির চৌধুরী এবং নাইজেরিয়ান সানডে গোল করে আবাহনীকে শিরোপা এনে দেন। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। আবাহনীর শেষ খেলা চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে, বৃস্পতিবার। ২১ খেলায় আবাহনী ৫১ পয়েন্ট পেয়েছে। রানার্সআপের লড়াইয়ে আছে শেখ জামাল ও চট্টগ্রাম আবাহনী।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অলিখিত ফাইনাল দেখতে কয়েক হাজার দর্শক এসেছিলেন। খেলার প্রথমার্ধেই নাসিরের গোলে এগিয়ে যায় আবাহনী। আর খেলার শেষ দিকে সানডের গোল আবাহনী সমর্থকদের উত্সবের স্রোতে ভাসিয়ে দেয়। দর্শক মাঠে ঢুকে উল্লাস করে। এমন ছবি অনেকদিন দেখেনি ফুটবল দর্শক।
খেলাটা যে শুরুতেই আবাহনীর দখলে চলে যাবে সেটা বোধহয় বুঝতে পারেনি শেখ জামাল। যেখানে আবাহনী শুরুতেই চাপে থাকার কথা। কারণ আবাহনীর তিন ফুটবলার রক্ষনে নিয়মিত সামাদ ইউসুফ নেই ইনজুরির কারণে, রক্ষণে নেই ওয়ালী ফয়সাল তিন হলুদ কার্ডের কারণে। একই কারণে ছিলেন না আক্রমণভাগের রুবেল মিয়া। এই তিন ফুটবলার না থাকায় আবাহনীর শক্তিটা কমে যাওয়ার কথা। সুযোগটা নিতে পারেনি শেখ জামাল। রেফারি মিজানুর রহমানের বাঁশির শুরুতেই। আবাহনীকে ঠেকাতে গিয়ে পুরোপুরি চাপ নিয়ে ফেলে শেখ জামাল। সেই চাপে শেখ জামালের মাঝমাঠ এবং রক্ষণ ভাঙ্গে। শেখ জামালের জাবেদ, আলী হোসেন, নুরুল আবসার, রুবেল, শ্যামলদের ভুল পাসের ছড়াছড়ি। আক্রমণভাগে ছন্নছাড়া ফুটবল আবাহনীর দুয়ার খুলে যায়। ৫টা কর্নার পায় আবাহনী। ২৩ মিনিটেই গোলের দেখা পায় আবাহনী। সেটাও কর্নারের উত্সই ছিল বলা যায়। সোহেল রানার কর্নারের বল ইমন বাবু ওয়ালপাস করেন সোহেল রানাকেই। সোহেল রানা ক্রস ফেলে শেখ জামালের জটলায় বক্সে। রক্ষণ ছেড়ে উঠে আসা নাসির উদ্দিন চৌধুরী কপালের ছোঁয়ায় অসাধারণ দক্ষতায় বল শেখ জামালের জালে ফেলেন ১-০। লিগে ৭ নম্বর গোল। এভাবে অনেকবারই এই নাসির গোল করেছেন। দলকে জিয়েছেন। জাতীয় দলের জার্সি গায়েও এভাবে গোল করেছেন নাসির। কার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আবাহনীকে মহামুল্যবান গোলটিও উপহার দিয়েছেন আবাহনীকে। ট্রফি এনে দিয়েছেন নাসির চৌধুরী।
শেখ জামাল যেভাবে দুর্দান্ত খেলে ৩-১ গোলে চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়েছিল। যে খেলাটা নিয়ে ফুটবল মহলে প্রশংসার ঢেউ উঠল। কাল আবাহনীর বিপক্ষে কোথায় গেল চোখ ধাঁধানো খেলা। আবাহনী যেন ফুটবল খেলল চ্যাম্পিয়ন দলের মতোই। আবাহনী বড় দল সেটা খেলে প্রমাণ করল। কারো অনুপস্থিতি টের পেতে দেয়নি আবাহনীর নাসির, সোহেল রানা, ইমন বাবু, রায়হান, সানেড, এমেকা ডালিংটনরা। বিরতির শেষ মুহুর্তে গিয়ে শেখ জামাল প্রথম কর্নার পায়। বিরতির পরও আবাহনী যেন দুর্দান্ত। উজ্জলতা ছড়িয়ে দিয়ে একই ধারায় শেখ জামালকে থামিয়ে রাখল। শেষ মুহূর্তে সানডের গোল আবাহনীকে শিরোপা নিশ্চিত করে দেয় ২-০।
আবাহনী ঃ
সোহেল (অধিনায়ক), নাসির চৌধুরী, রায়হান, ইমন বাবু, সোহেল রানা, টুটুল হোসেন বাদশা, ফাহাদ (প্রানতোষ), সাদ উদ্দিন, এমেকা ডার্লিংটন, সানডে চিজোবা, জীবন (মামুন মিয়া)।
শেখ জামাল ঃ
নাঈম, শ্যামল মিয়া, মামুন, খান তাঁরা, দিদারুল হক (অধিনায়ক), জাবেদ খান, আলী হোসেন, ইমরান হোসেন রুবেল (জাহেদ পারভেজ), নুরুল আবসার (সোহেল মিয়া), রাফায়েল, সলোমোন কিং। রেফারী ঃ মিজানুর রহমান।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply