শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১:৪৮

শিরোনাম :
সরিয়ে দেওয়া হলো বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারীকে বরিশাল কাউনিয়ায় পুলিশের অভিযান: ৪০ পিস ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক ৪ বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে বমির চিকিৎসায় গর্ভপাতের ওষুধ! লঞ্চ দুর্ঘটনায় আহতের পাশে বরিশালের ডিসি শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়তে বরিশালে ইউএনওর বিশেষ উদ্যোগ বরিশালে বিদ্যুতের চাহিদা আকাশছোঁয়া, সরবরাহ তলানিতে বরিশালে প্রাথমিক চক্ষু স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগ বাকেরগঞ্জে কারখানা নদীতে সেতু নির্মাণে স্থান পরিদর্শন করল চীনা প্রতিনিধিদল নিম্নমানের পণ্য কিনতে বাধ্য করছে টিসিবি

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে বমির চিকিৎসায় গর্ভপাতের ওষুধ!

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক : বমি ও শারীরিক দুর্বলতার চিকিৎসা নিতে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে গর্ভের মৃত সন্তান অপসারণের ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওষুধ সেবনের পর ওই নারীর পেট শক্ত ও ফুলে যাওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনরা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা। তাদের দাবি, ভুল ওষুধ দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরও ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীর স্বামী মামুন হোসেন জানান, বমি ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে গত ১৮ আগস্ট তার স্ত্রীকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গাইনি চিকিৎসক ডা. রেহানা ফেরদৌসের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে রাতে গাইনি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. মো. শাহরিয়ার হক সুমন রোগীকে দেখে ব্যবস্থাপত্র দেন।
মামুন হোসেনের অভিযোগ, ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে স্ত্রীকে খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পর তার পেট শক্ত হয়ে আসে এবং অস্বস্তি অনুভূত হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তখন বলা হয়, গর্ভে নষ্ট হয়ে যাওয়া সন্তান বের করার ওষুধ তাকে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় রোগীর স্বামী ও স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্বজনদের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন এবং অভিযোগ ওঠা চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার হক সুমন হাসপাতাল থেকে চলে যান। পরে তার সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে গাইনি চিকিৎসক ডা. রেহানা ফেরদৌস বলেন, রোগীকে যে ওষুধটি দেওয়া হয়েছে, সেটি সাধারণত গর্ভের মৃত সন্তান অপসারণের জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে ওই রোগীকে কেন ওষুধটি দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
তিনি দাবি করেন, ওই ওষুধ সেবনে গর্ভের জীবিত সন্তানের ক্ষতি হয় না এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এর প্রভাব স্বাভাবিক হয়ে যায়।
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ময়ল কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকালে রোগীকে হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গর্ভের সন্তান ভালো আছে। তবে রোগীর স্বজনরা বাইরে থেকেও আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে চেয়েছেন। দুটি রিপোর্ট পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তবে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বা অন্য কারও বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন—এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি আরএমওর কাছ থেকে।
অন্যদিকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও বরিশাল জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মুন্সী মুনিবুল হক বলেন, তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। আরএমও তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, যতটুকু জেনেছেন, রোগীকে সাইটোমিক ২০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত একটি ট্যাবলেট সেবনে বড় ধরনের সমস্যা হয় না। তবে রোগী বর্তমানে ভালো থাকলেও এখানে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে।

ডা. মুন্সী মুনিবুল হক আরও বলেন, আগামী শনিবার তিনি নিজে হাসপাতাল পরিদর্শন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net