খেলার মাঠ ধ্বংস করে একাডেমিক ভবন নির্মানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ শিক্ষার্থীরা। এসময় নিজ কার্যালয়ে টানা দুই ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয় কলেজ অধ্যক্ষকে। পদত্যাগ দাবী করা হয় মাহামুদ ইসলাম নামের অপর এক শিক্ষকের।
আজ সোমবার (২৮ জানুয়ারী) সকার ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নগরীর নবগ্রাম সড়কের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের প্রশাসনিক বিভাগের সামনে এই বিক্ষোভ ও অধ্যক্ষকে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয় কাউন্সিলরের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। পাশাপাশি খেলার মাঠে একাডেমিক ভবন নির্মান কাজ হলে শিক্ষর্থীরাও তাদের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করে।
আন্দোলনে অংশ নেয়া সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী সৈয়দ নির্জন বলেন, আমাদের কলেজের শিক্ষার্থী ক্রীড়া চর্চার জন্য একটিমাত্র খেলার মাঠ রয়েছে। এখানে কলেজ শিক্ষার্থী ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠানও হয়।
কিন্তু সম্প্রতি একমাত্র খেলার মাঠটি নষ্ট করে সেখানে পৃথক দুটি একাডেমিক ভবন নির্মান কার্যক্রম শুরু হয়। এমনকি কাউকে কিছু না জানিয়েই গত ২৩ জানুয়ারী কলেজ অধ্যক্ষ সচিন কুমার রায় ৬ ও ৮ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন দুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মাঠটিতে পাথর ফেলে এবং বালু ভরাট করে নষ্ট করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদ ও খেলার মাঠ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় সোমবার (২৮ জানুয়ারী) সকাল ১১টায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা সকল ধরনের ক্লাস এবং পরিক্ষা বর্জন করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে। সেই সাথে অধ্যক্ষকে তার কার্যালয়ের মধ্যে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ সচিন কুমার রায় একজন আলোচিত এবং বিতর্কিত অধ্যক্ষ। যিনি নিজের ভোটার আইডিকার্ড এবং সার্টিফিকেট পরিবর্তন করে চাকুরীর মেয়াদ বাড়িয়ে পদোন্নতী গ্রহন করেন। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে তদন্ত কমিটিও হয়।
শিক্ষার্থীরা বলেন, দু’দিন পরেই অধ্যক্ষ সচিন কুমার রায় চাকুরী জীবন থেকে অবসর গ্রহন করছেন। অবসর গ্রহনের আগে কোন ভালোকাজ না করলেও শিক্ষার্থীদের একমাত্র খেলার মাঠটি ধ্বংস করে দিয়ে যাচ্ছেন। কলেজের জামায়াত অনুসারী শিক্ষক মাহামুদ ইসলামের যোগসাজসে অধ্যক্ষ এ ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনা করে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
এ প্রসঙ্গে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সচিব কুমার রায় এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংএ থাকার ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে যোগাযোগ করতে বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তবে কলেজের একটি দায়িত্বশিল সূত্র জানিয়েছে, চলমান সংকট নিরসনে মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারী) এক জরুরী সভা ডাকা হয়েছে। সেখানেই খেলার মাঠ ও একাডেমিক ভবনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply