খবর বরিশাল ডেস্ক ::
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতির নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা। অথচ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরেও দেখা মিলল না অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর। অফিসের বিভিন্ন কক্ষ ছিল ফাঁকা। উপস্থিত ছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন স্টাফ।
শুধু সরেজমিনের চিত্রই নয়, অফিসের হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করেও কয়েকজন কর্মকর্তার একাধিক কর্মদিবস অনুপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের কেউ ছুটিতে ছিলেন কি না, মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে ছিলেন কি না এবং অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন ছিল কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে প্রবেশের নির্ধারিত সময় সকাল ৯টা। সেই নিয়ম অনুযায়ী রোববার দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কক্ষই ফাঁকা।
কার্যালয়ে উপস্থিত স্টাফদের একজন উচ্চমান সহকারী আবদুর রহিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা, জেলা ও প্রকৌশলী কার্যালয় মিলিয়ে সেখানে মোট ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ জন মাঠপর্যায়ে কাজ করেন এবং ১৪ জন অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুইজন স্টাফ ছুটিতে রয়েছেন।
তবে সরেজমিনের চিত্রে অফিসে উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। দুপুর ১২টার সময়ও কার্যালয়ে মাত্র চার থেকে পাঁচজন স্টাফকে পাওয়া যায়। অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন অনুপস্থিত।
এরপর হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে কয়েকজন কর্মকর্তার টানা একাধিক কর্মদিবসে অনুপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
হাজিরা খাতার তথ্য অনুযায়ী, সহকারী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামানসহ চার থেকে পাঁচ কার্যদিবস অনুপস্থিত ছিলেন। সহকারী প্রকৌশলী মো. আবির হাসান অনুপস্থিত ছিলেন দুই কার্যদিবস। সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. আফজাল হোসেনের অনুপস্থিতি পাওয়া গেছে পাঁচ কার্যদিবস।
এ ছাড়া উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশিকুর রহমান দুই কার্যদিবস এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাদিয়া সুলতানা জেবাও দুই কার্যদিবস অনুপস্থিত ছিলেন বলে হাজিরা খাতায় দেখা যায়।
এখানে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও হাজিরা খাতায় বৃহস্পতিবার ও রোববারের মতো কর্মদিবসে এসব কর্মকর্তার অনুপস্থিতির তথ্য রয়েছে। ফলে নিয়মিত কর্মদিবসে তাদের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কর্মকর্তাদের এই ধারাবাহিক অনুপস্থিতি ও ছুটির অনুমোদনের বিষয়ে জানতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন।
তিনি সাফ জানান, যারা ফিল্ডে কাজ করে, হাজিরা খাতায় তাদের স্বাক্ষর থাকাটা অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। ছুটির আবেদন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, কার কতটা ছুটির আবেদন আছে, তা কি আমি মুখস্থ করে রাখব?
পরবর্তীতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে ফোনকলে চরম উত্তেজিত হয়ে উঠে তিনি বলেন, আপনাদের কিছু জানতে হলে হাই অথরিটির পারমিশন নিয়ে আসেন, তারপর বক্তব্য দেব।
সরকারের কঠোর তদারকির নির্দেশনার মধ্যেও মাঠপর্যায়ের এই দপ্তরটিতে কীভাবে দিনের পর দিন হাজিরা ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আস্কারায় এমন অনিয়ম চলছে, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। স্থানীয়দের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমেই কেবল এই দপ্তরের বিশৃঙ্খলা দূর করা সম্ভব।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply