ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা নেয়া ও পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির তথ্য চেপে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ৬২টি জেলা প্রশাসককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে ৪ ফেব্রুয়ারি । কেন মন্ত্রিপরিষদকে জানাননি ডিসিরা তা তিন দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে। ভুল প্রশ্নে নেয়া পরীক্ষার তথ্য মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ছাড়া আর কেউ মন্ত্রি পরিষদকে জানাননি। ৪ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের উপসচিব মো: শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানা গেছে।
চিঠিতে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার জন্য দোষীদের শাস্তি দিয়ে আগামীকাল বুধবারের মধ্যে মন্ত্রি পরিষদ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কাউকে পরীক্ষার হলে মোবাইল ব্যবহার করতে না দেয়া বিধান কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদা কক্ষে বসাতে বলা হয়েছে। সামনের পরীক্ষাগুলো যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় সেজন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ডিসিদের বলা হয়েছে।
শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা, চট্টগ্রাম, জামালপুর, নওগাঁ, শেরপুর, সাতক্ষীরা, মুন্সিগঞ্জ, গাইবান্ধা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাগেরহাট ও মাদারীপুরসহ কয়েকটি জেলার ২০টিরও বেশি কেন্দ্রে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পুরনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। সেদিন ছিল বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা। এসব প্রশ্নপত্র ছিল পুরোনো পাঠ্যক্রমের ভিত্তিতে অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য। ভুল ধরা পড়ার পর কোথাও পরীক্ষার্থীদের সময় বাড়িয়ে দিয়ে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে আবার কোথাও হয়নি। এতে কম নম্বর পাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেক পরীক্ষার্থী।
তবে, শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি জাতীয় সংসদে বলেছেন ভুল প্রশ্নে নেয়া পরীক্ষার্থীদের খাতা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো: সোহরাব হোসাইন বলেছেন, পরীক্ষার্থীরা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকদের ভুলে পরীক্ষার্থীদের কোন খেসারত দিতে হবে না। পরীক্ষার্থী ক্ষতি প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পুষিয়ে দেয়া হবে। অভিভাবকদেরও বার বার আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সরকারবিরোধী স্ট্যাটাসে শেয়ার-লাইক দিতে পারবেন না শিক্ষকরা
ফেসবুকে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক স্ট্যাটাস না দিতে এবং এই ধরনের স্ট্যাটাসে মন্তব্য, শেয়ার বা লাইক না দিতে প্রাথমিকের সব শিক্ষক-কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গতকাল সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব সোহেল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি স্কুল কলেজ এবং প্রাথমিকের শিক্ষকদের একাধিক গ্রুপ রয়েছে ফেসবুকে। এসব গ্রুপে শিক্ষকরা সরকারের সমালোচনা করে আজেবাজে মন্তব্য করেন। এতে করে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিষয়টি সরকারে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নজরে আসায় এ ধরনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার-সংক্রান্ত নির্দেশিকা, ২০১৬’ এর আলোকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা-সংক্রান্ত সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক স্ট্যাটাস বা মন্তব্য প্রদান ও শেয়ার করা হতে বিরত থাকতে প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সব শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সবাইকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply