শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ২:১৩

শিরোনাম :

বরিশালে জমজমাট হয়ে উঠেছে ঈদের বাজার

dynamic-sidebar

পবিত্র মাহে রমজানের শুরু হতে না হতেই অন্তত বরিশালে জমে উঠেছে আসন্ন ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে জমজমাট হয়ে উঠছে নগরীর শপিংমলগুলো। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে ছেলে-বুড়ো, নারী, পুরুষসহ সব বয়সীদের।দোকানগুলোতে হরেক ধরনের রং-বেরঙের বাহারী ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। পছন্দের পণ্য ক্রয় করতে আগতরা এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটছেন। আর এবারের ঈদে প্যান্ট, শার্ট, ফতুয়া, থ্রী-পিস, শাড়ীসহ সব ধরনের পোশাকেরও সরবরাহ বিপুল।

মহানগরীর জোহরা মার্কেট, মাহমুদ মার্কেট, চক বাজার, ভেনাস মার্কেট, মমতা কমপ্লেক্স, বেল ইসলামিয়া মার্কেট, মমতা কমপ্লেক্স, সদর রোডের পোশাক বাজার, ফকির কমপ্লেক্স, ফাতেমা শপিং সেন্টারসহ বিভিন্ন শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, জমজমাট ঈদ বাজার।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি ঈদের মত এবারের ঈদেও বরিশালের মার্কেটগুলোতে প্রচুর পোশাকের সমারহ ঘটেছে। বড় বড় দোকানগুলোতে কোটি কোটি টাকার পণ্য উঠানো হয়েছে। শোরুমগুলোতে বিপুল অংকের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে লাভের আশায়। কিছু পোশাকের দাম বেশি হলেও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে অন্যন্য পোশাকের দাম। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই বেচা-বিক্রি বাড়ছে। তবে সামনের দিনগুলোতে বিক্রি আরো বাড়বে বলে জানান বিক্রেতারা।

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহ পর্যন্ত দমাতে পারছে না, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের আনন্দোচ্ছল কেনাকাটার প্রবল আগ্রহ। উল্লেখ্য, এবারে ঘূর্ণিঝড় ফণীর ভ্রুকুটি সত্ত্বেও ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষীরা খুশি। খুশি সাধারণ মানুষও নিত্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে থাকায়। এর পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়তি বোনাস তো আছেই। সব মিলিয়ে আন্দন সংবাদ হলো ঈদ আসছে।

ঈদকে ঘিরে ক্রমশ চাঙ্গা হয়ে উঠছে দেশের অর্থনীতি। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও এর অবদান কম নয়। আরও যা আশার কথা, এর পরিমাণ বাড়ছে দিন দিন। অবশ্য বিষয়টি যে একেবারে নতুন তা নয়। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাঙালির জীবনে দৈনন্দিন অর্থনীতির চাকা সচল হয়ে ওঠে প্রধানত যে কোন ধর্মীয় অথবা সাংস্কৃতিক উৎসবকে ঘিরে। এই যেমন ঈদ, পূজা, বাংলা নববর্ষ, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইত্যাদি।

তবে তা সবচেয়ে সরব ও স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে ওঠে প্রধানত ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আজহাকে ঘিরে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজা উপলক্ষে। তবে সবার ওপরে রয়েছে ঈদ-উল-ফিতর, অন্তত বাংলাদেশে। একসময় ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিলো নতুন জামা, নতুন জুতা। বঙ্গ ললনার ক্ষেত্রে তা ছিলো শাড়ি। তবে এখন যুগ ও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদা এবং রুচি বদলেছে।

এসেছে ফ্যাশনদুরস্ত কাপড়-চোপড়, মেয়েদের সালোয়ার কামিজ, বাহারি শাড়ি ও হিজাব, রকমারি জুতা, প্রসাধন সামগ্রী, গহনা ইত্যাদি। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও আজকাল সর্বদাই হাল ফ্যাশনের অনুষঙ্গ খোঁজে পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে, এমনকি শিশুরাও বাদ যায় না। আর এ তো শুধু পোশাক-পরিচ্ছদে সীমাবদ্ধ নেই, একই সঙ্গে চাই ঘরের সাজসজ্জা, আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ, এসি, এমনকি হাল মডেলের গাড়ি পর্যন্ত। মানুষ এখন রীতিমতো আধুনিক ও কেতাদুরস্ত হয়ে উঠেছে।

এত বিপুল ব্যয় ও অর্থ খরচের পেছনে মূল নিয়ামক হিসেবে যেটি কাজ করেছে তা হলো ইতোমধ্যে মানুষের আয়-উপার্জন বেড়েছে বহুগুণ। সরকারি, আধা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, উৎসব ভাতা বেড়েছে। বেড়েছে প্রবাসী আয়। জাতীয় প্রবৃদ্ধির হারও যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক, সাত শতাংশের ওপরে। বেড়েছে মাথাপিছু আয়।

দেশ এখন স্বল্প আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে ধাবমান। ছোট-বড় ব্যবসা-বাণিজ্যও বেড়েছে বহুগুণ। মানুষের মধ্যে জেগেছে কর্মস্পৃহা। সে এখন আয়-উপার্জন বাড়াতে ইচ্ছুক। এসবই যুক্ত হচ্ছে জাতীয় উৎসবের অর্থনীতিতে। ফলে শহরের অর্থনীতির পাশাপাশি চাঙ্গা হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিও। জমজমাট ঈদের বাজারে এরই সুবাতাস প্রবহমান। আমরা চাইবো নির্বিঘ্নে মানুষ যাতে কেনা কাটা করতে পারে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net