এইচ আর হীরা ॥ কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকায় বাসায় ফিরে যাওয়ার খেসারত হিসেবে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে এক শিশু শিক্ষার্থী। গত রবিবার নগরীর ২০নং ওয়ার্ডের বৈদ্যপাড়া এলাকার সাকসেস মডেল স্কুল এন্ড কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থী মোঃ তানজিম ইসলাম (৯) কে মারধরের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ হাবিবুর রহমান স্বীকার করে বলেন, রাগে মাথা গরম হয়ে যাওয়ায় এমনটি করেছেন তিনি। যদিও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি তানজিমের অভিভাবকগন ।
তবে তানজিমের পিতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান,আমার সন্তানকে লেখাপড়া করানোর জন্য শিক্ষা কেন্দ্র ভেবে সেখানে পাঠিয়েছি কোনো টর্চারশেলে পাঠাইনি। তিনি আরো বলেন ,আমার ছেলের সাথে যা হয়েছে এরপরেও আমি কিভাবে সেই টর্চারশেল নামক স্কুলে পাঠাবো। তাই আমি আর আমার সন্তানকে ওই স্কুলে আর পাঠাবোনা। পাশাপাশি এ ধরণের নির্যাতনের বিচারের দাবী জানান তানজিমের অভিভাবক ।
২৮নং ওয়ার্ডের চহুতপুর শেরে বাংলা সড়কের বাসিন্দা শিশু তানজিমের বাবা-মা এই প্রতিবেদককে বলেন বলেন, তার ছেলে (তানজিম) গত শনিবার কোচিং করতে যায়। কিন্তু কোচিং ক্লাস বন্ধ পেয়ে সে বাড়ি ফিরে আসে। পরের দিন অর্থাৎ গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে পুনরায় কোচিং করতে যায় তানজিম। বেলা ১১টার সময় শ্রেনী কক্ষ থেকে তানজিমকে অফিস কক্ষে নিয়ে যায় শিক্ষক হাবিবুর রহমান। তিনি তানজিমের কাছে জানতে চান, শনিবার কেনো কোচিং করতে আসনি ।
এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্র তানজিম বলে “স্যার আমি এসে দরজা তালা দেয়া দেখে বাসায় চলে গেছি।” তানজিমের কথা শুনে শিক্ষক হাবিব তার উপর চড়াও হন, এবং অফিস কক্ষের দরজা আটকে এবং কোচিং সেন্টারের সিসি ক্যমেরা বন্ধ করে জোড়া বেত্রাঘাত করতে শুরু করে তানজিমকে। এসময় তানজিমের ডাক চিৎকার শুনে অন্যান্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এগিয়ে আসলে অফিসের জানালা বন্দ করে দেন তিনি। তানজিমের মা কান্না জরিত ভাষায় বলেন,সেদিন ছুটি শেষে তানজিম বাসায় আসলে ওর শরিরের পোশাক খুলতেই ছেলের দুই হাতে লাল আকারে দাগ দেখতে পাই ।
এ সময় কারণ জানতে চাইলে তানজিম কান্না করতে করতে বলে, “স্যার দরজা জানালা বন্ধ করে আমায় অনেক মারধর করেছে”। এরপর তানজিমের মা ডাক্তারের কাছে গিয়ে তানজিমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় ফিরে আসেন। পরবর্তীতে তানজিমের মা তার ছেলেকে মারধর করার বিষয়টি শিক্ষক হাবিবুর রহমনের কাছে জানতে চাইলে, তিনি উল্টো তার উপর ক্ষিপ্ত হন। তানজিমের বাবা বলেন, শিশুদের মারধর করার ব্যাপারে সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে শুনেছি। কিন্তু আমার ছেলেকে যেভাবে বেত্রাঘাত করা হয়েছে তাতে ওর শরীরে ১০৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জ্বর উঠে গেছে।
তিনি সংবাদ কর্মীদের মাধ্যমে তার ছেলেকে মারধরের ঘটনা প্রশাসনের নজরে এনে বিচারের জোড় দাবী জানিয়েছেন।এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, রাগের মাথায় দু’একটা বারি দিইয়েছি। অবশ্য তানজিমের মা তাকে বলেছিলেন ছেলে দুস্টুমি করলে শাসন করতে তাই তানজিমকে শাশন করেছি। তিনি আরো বলেন, দরজা-জানালা বন্ধ করে পিটিয়েছি এ কথা সত্য নয়। এ সময় তিনি নিজেকে বরিশালের বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদকর্মীদের নাম উল্ল্যাখ করে এই প্রতিবেদককে থামানোর চেস্টা করে থাকে। এবং নিজেকে দক্ষিণের কণ্ঠ নামক পত্রিকার সংবাদ কর্মী হিসেবেও পরিচয় দিয়ে থাকেন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply