বুধবার, ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:০৬

শিরোনাম :
আ.লীগ ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতির কোমর ভেঙে দিয়েছে: তথ্যমন্ত্রী বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে ইন্টারনেট সংযোগ মেরামতের সময় দগ্ধ যুবক ফরিদপুরে ট্রাকের সংঘর্ষে পুকুরে বাস, আহত ১৫ ১৩ সিটি নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী যারা সন্ধ্যা নদীতে ফিশিং বোটে অভিযান, বিপুল পরিমাণ হরিণের মাংস উদ্ধার বাউফলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলা পটুয়াখালীতে বিএনপির ২ গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০ গলাচিপায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির মধ্যে হোটেলে ভাঙচুর পটুয়াখালীতে নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত গণতন্ত্রের জন্য বহু নেতা-কর্মী প্রাণ দিয়েছেন: জহির উদ্দিন স্বপন

১ লাখ টাকায় মাত্র ২ হাজার টাকা ট্যাক্স নিতেন মেয়র কামাল

dynamic-sidebar

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। আজ বুধবার বেলা ১২টায় নগর ভবনের তৃতীয় তলায় সভা কক্ষে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের সচিব ও রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন জানিয়েছেন- নগরীতে আগে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে নানা অনিয়ম ছিলো। আগের পরিষদের মেয়র আহসান হাবিব কামাল তার ইচ্ছেমতো ট্যাক্স কমিয়ে দিতেন। কিন্তু বর্তমান মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর নগর ভবনের রাজস্ব বাড়ানোর নানা তৎপরতা শুরু করেন। এতে আগের পরিষদের ট্যাক্স আদায়ের নানা অনিয়ম ফাঁস হয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র সেরনিয়াবত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন- তিনি নতুন করে কোন হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়াননি। ২০১৬ সালে তৎকালীন পরিষদ যে ট্যাক্স নির্ধারন করেছিলো, তাও আদায় হচ্ছিলো না। নানাভাবে করপোরেশনকে ঠকানো হচ্ছিলো।

এর উপর আবার ২০১৮ সালে গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয় থেকে নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী ট্যাক্স আদায় হলে জনগনের উপর অনেক বড় চাপ পড়বে। তাই তিনি আগের ধার্য্য করা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে গুরুত্ব দেন। এরপরও কারো কোন আপত্তি থাকলে বিষয়টি তিনি মানবিক দৃস্টিতে দেখবেন বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৫২ হাজার হোল্ডিংয়ে বছরে ট্যাক্স আদায় হয় ৯ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৬ সালের বাড়ি ভাড়া অনুযায়ী ট্যাক্স আদায় করতে পারলে বছরে ৮০ থেকে ৯০ কোটি টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা সম্ভব।

এ সময় মেয়র সাদিক বলেন, জনগনের টাকায় নগর ভবন পরিচালিত হয়। রাস্তা-ঘাট, ড্রেনেজ, ফুটপাত নির্মাণ, সড়ক বাতি স্থাপন, বর্জ্য অপসারণ ও পানির লাইন সম্প্রসারণ সব কিছুই হয় জনগনের টাকায়। জনগণ ট্যাক্স না দিলে নগর ভবন সেবা দেবে কিভাবে। তাই তিনি সকলকে ধার্য্যকৃত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের অনুরোধ করেন। একটি মহল ট্যাক্স বাড়ানোর গুজব ছড়িয়ে নগর ভবনের সুনাম ক্ষুন্ন করার পায়তারা করছে বলে অভিযোগও করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের সচিব ও রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের অননিয়ম তুলে ধরে বলেন- বরিশাল নগরীর সদর রোডের ডা. সোবাহান মার্কেটের চায়না প্যালেসের সংযুক্ত ভবন বাবদ আগে সিটি করপোরেশনকে বছরে হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়া হতো ২৭ হাজার টাকা। কিন্তু ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশনের রেজুলেশন হওয়া বিধি অনুযায়ি ওই ভবনের একাংশের নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। ভবনের অপরাশের হোল্ডিং ট্যাক্সও বেড়েছে আগের তুলনায় কয়েকগুন।

একইভাবে নগরীর কাঠপট্টিতে ব্যবসায়ী গ্রুপ খান সন্সের একটি বহুতল ভবনে এতদিন বার্ষিক হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হতো ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অথচ ২০১৬ সালের রেজুলেশন অনুযায়ী ওই ভবনের কর ধার্য্য হয়েছে ২৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

সিটি করপোরেশনের একজন সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আগে বার্ষিক হোল্ডিং ট্যাক্স দিতেন মাত্র ২ হাজার টাকা, যার বর্তমান হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার। একইভাবে সিটি করপোরেশনের সাবেক এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আগে ট্যাক্স দিতেন ৫শ’ ৬ টাকা, বর্তমানে তার ট্যাক্স নির্ধারিত হয়েছে ৯৫ হাজার টাকা। সিটি করপোরেশনের একজন কাউন্সিলর আগে ট্যাক্স দিতেন মাত্র ১ হাজার ৩শ’ টাকা, অথচ নতুন করে তার ট্যাক্স ধার্য হয়েছে ৬৪ হাজার টাকা।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net