মঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:১৪

হাম-ডেঙ্গুতে বিপর্যস্ত বরিশালের জনস্বাস্থ্য

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক: 

হাম ও ডেঙ্গু বরিশাল অঞ্চলজুড়ে এখনো দাপট বিস্তার করে চলছে। সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসেই বরিশাল বিভাগের শুধু সরকারি হাসপাতালেই হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিশু ভর্তি হয়েছে। তবে জুলাই মাসে এসব হাসপাতালে হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু হলেও আগস্টে কারও মৃত্যু হয়নি।

অপরদিকে গত মাসে এ অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া প্রায় ২ হাজার ৭০০ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে দুজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের শুধু সরকারি হাসপাতালেই হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৭ হাজারে পৌঁছেছে। মৃত্যু হয়েছে ৫৪টি শিশুর। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যাও সাড়ে ৬ হাজার অতিক্রম করেছে। মারা গেছেন ৯ জন। যার মধ্যে গত মাসেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

এখনো প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে দেড়শ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আসছে। ডেঙ্গুর চিত্রও প্রায় সমান। তবে এসব হিসাব শুধু সরকারি হাসপাতালের হলেও প্রকৃত হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন। তাদের মতে, মানুষ শরীর ও মনের অত্যন্ত নাজুক অবস্থা ছাড়া সরকারি হাসপাতালে যেতে চায় না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৭ হাজার ২৭৩টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। যার মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৭৭৬। আর ইতোমধ্যে হাম উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে যে ৫৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১৯টি শিশু।

অপরদিকে গত কয়েক মাসে এ অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া ৬ হাজার ৫৬০ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। তবে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬ হাজার ১৫৮ ডেঙ্গু রোগী। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩৯৩ ডেঙ্গু রোগী। অপরদিকে ইতোমধ্যে শুধুমাত্র সরকারি হাসপাতালেই মারা গেছেন ৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। যার দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে সদ্য সমাপ্ত আগস্ট মাসে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের মাঝে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টিকা প্রদান না করতে পারলে খুব সহসাই হাম থেকে নিষ্কৃতির কোনো সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হামের টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে টিকা প্রদানের একটি কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলেও জানিয়েছেন পরিচালক।

পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভাসহ এর বংশ নিধনে ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিবিড়ভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল মহল।

অপরদিকে হামের চিকিৎসায় হাসপাতালে ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিট—আইসিইউ’র কোনো বিকল্প না থাকলেও বরিশাল অঞ্চলে একমাত্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া কোথাও এর অস্তিত্ব নেই। সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালেরই একই চিত্র। ফলে হামের চিকিৎসাও চলছে অনেকটাই জোড়াতালি দিয়ে।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ইতোমধ্যে এ বিভাগের ৬০ শতাংশ রোগী ভর্তি হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম এ সরকারি হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে ১১২টি শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। একই সময়ে ৭২ জন ডেঙ্গু রোগীরও চিকিৎসা চলছিল হাসপাতালটিতে।

হাসপাতালটির শিশু বিভাগের মেঝেতেও এখন পা ফেলার কোনো স্থান নেই। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৭৫ শয্যার শিশু বিভাগে ৪২৭টি শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। যার মধ্যে ১১২টি হাম উপসর্গের রোগী ছাড়াও প্রায় ৩০টি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুও চিকিৎসাধীন ছিল।

সূত্র- ইনকিলাব

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net