মঙ্গলবার, ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৫৫

বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বিপর্যস্ত বরিশাল

dynamic-sidebar

>>ঘণ্টার পর ঘণ্টা অন্ধকারে গ্রাম-শহর<<
খবর বরিশাল ডেস্ক:
বিদ্যুতের ঘাটতিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বরিশালের জনজীবন। দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগর ও জেলার মানুষ। কোথাও দিনে আট থেকে নয়বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। বিদ্যুৎ এলেও অনেক এলাকায় ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। এতে ভ্যাপসা গরমে ঘরে থাকা, পড়াশোনা, অনলাইন কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প-কারখানাতেও। উৎপাদন সচল রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলে ১৮২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১২৬ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৫৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে জেলায় লোডশেডিং ছিল ২৮ মেগাওয়াট। পিরোজপুরে ৫, পটুয়াখালীতে ৭, বরগুনায় ৫, ঝালকাঠিতে ৫, শরীয়তপুরে ৩, ভোলায় ৩, বোরহানউদ্দিনে ২ এবং চরফ্যাশনে ১ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল।

নগরীর বটতলা, গোড়াচাঁদ দাস রোড, চৌমাথা, নবগ্রাম রোড, নথুল্লাবাদ ও কাশীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক মাস ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে। দিনে পাঁচ থেকে সাতবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। কোথাও এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোগান্তি বেড়েছে। কোথাও কোথাও পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।

নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জুম্মান হাওলাদার বলেন, ‘দিনে অন্তত আট থেকে নয়বার লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ এলেও সর্বোচ্চ ২০ মিনিটের মতো থাকছে। ভয়াবহ একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে।’

লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইনভিত্তিক পেশাজীবীরাও। এক ফ্রিল্যান্সার বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাজ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এতে কাজের ক্ষতির পাশাপাশি ক্লায়েন্ট হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিল্প খাতেও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে। অপসোনিনের একাধিক কারখানা, মেডিমেট, কেমিস্ট ও রেফকো ল্যাবরেটরিজের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া অমৃত ফুড, খান সন্স, অ্যাংকর সিমেন্ট, খান জুটেক্সসহ বিসিক শিল্প এলাকার বিভিন্ন কারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে নগরীর তুলনায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ বলে অভিযোগ পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের। অনেক এলাকায় দিনে চার ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা। এতে শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ওজোপাডিকোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বড় ধরনের বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি শিল্প ও ব্যবসা খাতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net