এইচ এম হেলাল ॥ রাস্তার পাশে মল ত্যাগ করার অভিযোগ তুলে যুবককে হাত পা বেঁধে গোছলখানায় ফেলে বুকের উপর দাড়িয়ে নির্যাতন করার পর বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেধে অমানুষিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি থানা পুলিশকে খবর দিলে এএসআই অরবিন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতনকারীর পক্ষ নিয়ে ওই যুবককে থানায় নিয়ে যায়। গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর জিয়া সড়ক এলাকায় এ অমানুষিক কার্যক্রম চালান বরিশাল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান সালাম। আহত যুবক মাইনুল (২৭)কে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুই পক্ষের দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে নির্যাতিত যুবক মাইনুলের মা সেতারা বেগম মামলার বাদী হওয়ায় তাকে থানায় ডেকে নিয়ে এএসআই অরবিন্দ বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সেতারা বেগম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়া সড়ক নিবাসী সালামের সাথে স্থানীয় মাইনুলের পরিবারের সাথে জমিজমা নিয়ে পূর্ব থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তারই জের ধরে গত বুধবার (২৩ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাস্তার পাশে মল ত্যাগ করার অভিযোগ তুলে নির্যাতিত মাইনুলকে আটকে রাখে। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হলে এক পর্যায় সালাম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মাইনুলকে হাত-পা বেধে একটি ভাড়াটিয়া বাসায় আটকে রাখে। এরপর তারা প্রথমে মাইনুলকে গোছলখানায় ফেলে তার বুকের উপর দাড়িয়ে পাড়াতে থাকে। কিন্তু নিষ্ঠুর সালাম এতেও সন্তষ্ট না হয়ে মাইনুলকে বাড়ির সামনের বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেধে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পেটায়। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলেও সালাম ও তার সন্ত্রাসী সাঙ্গপাঙ্গদের ভয়ে মাইনুলকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি। মাইনুলের অবস্থা বেগতিক দেখে কোতয়ালী মডেল থানার এএসআই অরবিন্দর সাথে সালামের সখ্যতা থাকায় তাকে ফোনে বিষয়টি অবগত করে। সাথে সাথে অরবিন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে উল্টো মাইনুলকে শাসায় এবং তাকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাৎক্ষনিক তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। আহত মাইনুল এ প্রতিবেদককে জানান, রাস্তার পাশে মল ত্যাগ করার অজুহাতে নির্যাতনকারী সালাম, হানিফ,সাহানা, তানজিলা, ময়না ও সিনথিয়া আমাকে হাত-পা বেধে গোছলখানায় ফেলে বুকের উপর দাড়িয়ে পারায় এবং এক পর্যায় বিদ্যুতের খুঁটির সাথে বেধে রড ও লাঠি দিয়ে পেটায়। আমি যদি মরে যাই তবে সালাম ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর তালুকদার শহিদুল দায়ী থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে মাইনুল জানায়, ইতোপূর্বেও সালাম আমাকে মারধর করেছে। বিষয়টি আমি কাউন্সিলর শহিদুলকে জানালেও তিনি কর্নপাত করেননি। এদিকে এ ঘটনায় মাইনুলের মা সেতারা বেগম থানায় মামলা করতে একটি ড্রাফট নিয়ে গেলে তার গ্রহণ না করে এএসআই অরবিন্দ নতুন করে মামলার এজাহার লিখে তাকে সেতারা বেগমের টিপসই নেন। সেতারা বেগম বলেন, আজ বিকেলে থানায় ডেকে নিয়ে অরবিন্দ তাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখান। এমনকি সেতারা বেগম ও তার ছেলেকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেন অরবিন্দ। এ ব্যাপারে কোতয়ালী মডেল থানার এএসআই অরবিন্দ মুঠোফোনে জানান, পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে এবং দুজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া নিজের ব্যস্ততার কথা বলে থানায় যোগাযোগের কথা বলে তিনি তার মুঠোফোনের সংযোগটি কেটে দেন।
স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সালাম কাউন্সিলরের লোক। তাছাড়া এক সময় বিএনপির কর্মী সালাম দল পাল্টে জাতীয় পার্টিতে নাম লেখায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভোল পাল্টে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে এলাকায় নানান অপকর্ম করে বেড়ায় সে। স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা জানান, সালামের বাড়ির সাথে তার জমি রয়েছে। কিন্তু ভূমিদস্যুখ্যাত সালাম জোরপূর্বক তার জমিতে গাছ লাগিয়ে দখলে নিয়েছে। সালামের নির্যাতনের শিকার নয়ন, আলম, সবুজসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানায়, ওই এলাকার বিভিন্ন মানুষের জমি জবরদখল করে নিয়েছে।
২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তালুকদার শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ভিডিওতে নির্যাতনের চিত্র দেখেছি। জমি নিয়ে সালাম ও মাইনুলদের সমস্যা ছিল। মাইনুল ১৫/২০ দিন পূর্বে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছিল। তাই বিষয়টি সুরাহার জন্য আমি সালামকে আসতে বললেও সে যোগাযোগ করেনি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply