মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৯:৫৩

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ৩৫ কিলোমিটার সড়ক বৃষ্টিতে কাঁদায় একাকার শুকনায় ধুলায় অন্ধকার

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ৩৫ কিলোমিটার সড়ক বৃষ্টিতে কাঁদায় একাকার শুকনায় ধুলায় অন্ধকার

dynamic-sidebar

স্টাফ রিপোর্টার:দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ৩৫ কিলোমিটার অংশের বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের কারণে যানচলাচলে বিঘœ ঘটছে। নাকাল হচ্ছেন চালক, যাত্রী ও পথচারীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানচলাচলের কারণে মহাসড়কে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে।
সূত্রমতে, ঈদের পূর্বে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে সওজ বিভাগ থেকে মহাসড়কের এসব গর্ত ইট ও বালুদিয়ে কোনমতে জোড়াতালি দেয়া হলেও তা স্থায়ী হচ্ছেনা। ফলে বৃষ্টি হলে কাঁদায় একাকার ও শুকনায় ধুলায় অন্ধকার হয়ে যায় পুরো মহাসড়ক। এতে করে পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত কয়েকদিনের প্রখর রোদে মহাসড়কের গৌরনদীর ভূরঘাটা থেকে উজিরপুরের জয়শ্রী পর্যন্ত অংশে ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পরেছে।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিনের শুকনায় মহাসড়কের ফুটপাত দিয়ে চলতে গিয়ে ধুলার জন্য নাক ও মুখ চেঁপে ধরে চলাচল করতে হচ্ছে। তারা আরও জানান, কিছুদিন পরপর নামেমাত্র ইট ও বালি দিয়ে মহাসড়কের গর্ত মেরামত করা হলেও সামান্য বৃষ্টিতে সেগুলো উঠে পুরনো রূপে (খানাখন্দে) ফিরে আসে পুরো মহাসড়ক। পুরো ৩৫ কিলোমিটার সড়কের ঢালাই উঠে গেছে গত ৭/৮ মাস পূর্বে। ফলে বৃষ্টি হলে রাস্তা হয় কাঁদার পুকুর আর শুকনায় ধুলায় অন্ধকার।
সরেজমিনে মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার ভুরঘাটা, ইল্লা, বার্থী, কটকস্থল, নীলখোলা, টরকী, গৌরনদী, আশোকাঠী, হ্যালিপ্যাড, কাছেমাবাদ, বেজহার, মাহিলাড়া, বাটাজোর, উজিরপুর উপজেলার বামরাইল, সানুহার ও জয়শ্রী এলাকায় দেখা গেছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। মহাসড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়তই বিকল হচ্ছে যানবাহন। যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগে দ্বিগুণ। গৌরনদী হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের বেহাল দশার কারণে ভারি যানবাহন চলাচল করার সময় প্রায়ই সড়কে দেবে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ঈদের পূর্বে মহসড়কের বেহাল দশার অংশ সংস্কারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মঘটের আল্টিমেটাম দিয়েছিলো জেলা বাস মালিক সমিতি। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে, ঈদের পর অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারীও দেয়া হয়েছে। মালিক সমিতির সভাপতি আবতাব হোসেন জানান, আগামি ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি মহাসড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা না হয় তাহলে বরিশালের সড়ক ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় বছরখানেক পূর্বে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশে ছয় ফুট বৃদ্ধিসহ মেরামতের দরপত্র আহবান করা হয়। দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ সম্পন্নের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স ও এমএসএএমপি জেভি লিমিটেড। কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় এক মাস পর মহাসড়কের নগরীর কাশিপুর থেকে গৌরনদীর ভুরঘাটা পর্যন্ত মেরামত এবং বর্ধিতকরণ কার্যক্রম শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। নগরীর কাশিপুর থেকে রহমতপুর পর্যন্ত একাংশের কাজ সম্পন্ন করা হলেও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরা উজিরপুরের জয়শ্রী থেকে গৌরনদীর ভুরঘাটা পর্যন্ত মহাসড়কের দুইপাশ খুরে নামেমাত্র কাজ করে ফেলে রাখা হয়। এরপর থেকেই অতিবর্ষণে পুরো মহাসড়ক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে এখন যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পরেছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রায় ৫০ কিলোমিটার মহাসড়কের দুইপাশ বর্ধিতকরণ কাজ শুরু করা হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৭ সালের জুলাই মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়নি। এ ব্যাপারে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, বৃষ্টির কারণে বিটুমিন দিয়ে টেকসই সংস্কার করা যাচ্ছেনা। তবে প্রায় প্রতিদিনই সাময়িক মেরামত চলছে। তিনি আরও জানান, পুরো রোদ পেলেই মহাসড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net