নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর সদর রোডস্থ বরিশাল সিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ অধিকারী দুর্নীতি মামলার কারনে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
আদালত সূত্র থেকে জানা যায়, বিগত ২০১৪ সালে সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহানারা বেগম বাদী হয়ে উপাধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ অধিকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। যাহার মামলা নং- সি.আর ৩৬৮/১৯ সি.এম.এম, বরিশাল। মামলাটি দন্ডবিধি ৪০৮/৪০৯/১০৯ তৎ সহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি আইনের ৫/(২) আত্মসাৎ কৃত টাকার পরিমান সরকারি ৩,৯২,১১৩/- টাকা এবং কলেজের অর্থ ২,৭৬,০৩৮/- টাকা।
মামলার আরজি সূত্রে আরো জানা যায়, ১নং আসামী বিগত ইং ০২/০৮/২০১৩ তাং থেকে ১৬/০৬/২০১৪ তাং পর্যন্ত বরিশাল সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২নং এবং ৩ নং আসামী উক্ত কলেজের অফিস সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করিতেছে। ইতিপূর্বে ১নং আসামী ০৩/০৩/২০০৭ ইং তাং থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১নং আসামী সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে উপাধ্যক্ষ পদের জন্য আবেদন করেন এবং নিয়োগ পান।
সহকারী অধ্যক্ষ পদ থেকে ০৯/০৯/২০১০ ইং তাং পদত্যাগ করে উক্ত তারিখে উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন। রবীন্দ্রনাথ অধিকারী বিগত ০৯/০৯/২০১০ ইং তাং উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করার পর তাকে অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত এর দায়িত্ব পালন করার সময় কুট কৌশলে পদত্যাগ করা সহকারী অধ্যাপক পদের সরকারি বেতন ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। আত্মসাৎ কৃত টাকার পরিমান ৩,১১,৯৭৮/- টাকা। এছাড়া এম.এল.এম মোঃ আউয়াল হোসেনকে সরকারি বেতন ভাতার ৮০,১৩৫/- টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করতে সাহায্য করেন। মোট আত্মসাৎ কৃত টাকার পরিমান ৩,৯২,১১৩/- টাকা। উক্ত সরকারি টাকা ২নং এবং ৩নং আসামীর সহায়তা সহ রূপালী ব্যাংক লিঃ বরিশাল সদর রোড শাখার ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজ্যে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
যাহা কলেজ গভর্নিয় বডির বিগত ইং ২০/০১/২০১৩ তারিখে গঠিত বরিশাল জেলা সমবায় কার্যালয়ের নিরীক্ষা কমিটি দাখিলকৃত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রমানিত হয়। বিগত ইং ১৩/০৬/২০১৪ তাং অত্র কলেজের অভ্যন্তরীন অডিট রিপোর্ট মোতাবেক কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে আদায়কৃত ২৩,৭৮,৭৬০/- টাকার মধ্যে কলেজ তহবিল ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৮,৫৮,০০০/- টাকা জমা করে। বাকী ১৫,২০,৭৬০/- টাকা হাতে রেখে বিনা বাজেটে ও গর্ভনিং বডির বিনা অনুমতিতে বিধি বহির্ভুত ভাবে ব্যায় করে। ইহা ছাড়াও অভ্যন্তরিন অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যায় যে, রবীন্দ্রনাথ অধিকারী ২,৭৬,০৩৮/- টাকা হাতে রেখে আত্মসাৎ করে।
এছাড়া বিগত ইং ২৭/০৮/২০১২ তারিখ কলেজ গভর্নিং বডির এক সভা হয়্ উক্ত সভায় সভাপত্বি করেন সাবেক মেয়র এবং কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এড. শওকত হোসেন হিরন। উক্ত সভায় রেজুলেশন জালিয়াতি করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ১নং আসামীকে সাময়িক বরখাস্থ করার সিদ্ধান্ত হয় এবং কার্যকরি হয়। ১নং আসামী প্রভাষক হিসাবে বরিশাল সিটি কলেজে নিয়োগ সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি এবং উপাধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ সবই অবৈধ এবং বিধিবহির্ভুত যাহা তদন্তে প্রমানিত হইবে।
দীর্ঘ সময় মামলাটি অনেক চড়াই উত্রাই অতিক্রম করে আজছিল মামলাটির হাজিরার ধার্য্য তারিখ। আসামী রবীন্দ্রনাথ অধিকারী হাজিরা দিতে গেলে দীর্ঘক্ষন জেরার পরে বিজ্ঞা চীফ মেট্রোপলিট ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত বিজ্ঞ বিচারক মোঃ কবির উদ্দিন প্রমানিক আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, একই মামলায় আরও দুই জন আসামী রয়েছে তারা হলেন এস.এম সাইদুর রহমান, হিসাব সহকারী ও অফিস সহকারী এবং আউয়াল হোসেন, অফিস সহকারী, সর্বসাং- সিটি কলেজ, বরিশাল।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply