বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ভোর ৫:২৭

শিরোনাম :
ডিবি পুলিশ কতৃক সাংবাদিকদের লাঞ্চিতের ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে মুসল্লি ও এলাকাবাসী

ডিবি পুলিশ কতৃক সাংবাদিকদের লাঞ্চিতের ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে মুসল্লি ও এলাকাবাসী

dynamic-sidebar

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার নগরীর চহুতপুর ২৮ নং ওয়ার্ড, আল্লাহর দান জামে মসজিদ সংলগ্ন বিআরটিসি কর্মচারী জালাল মিয়ার ছেলে মাদক ব্যাবসায়ী ইমরান হোসেন বাপ্পি ও তার ২ সহযগি কে বরিশাল ডিবি পুলিশ ইয়াবা সহ আটকের পর সংবাদ সংগ্রহে গেলে ডিবি পুলিশ কতৃক সাংবাদিকদের কে লান্চিত করা ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে আটকের ছবি মুছে ফেলার ঘটনায় সড়কে বিক্ষোভ মিছল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে মুসল্লি ও এলাকাবাসী।শুক্রবার বাদ জুমা নগরীর ২৮ নং ওয়ার্ডের আল্লাহর দান জামে মসজিদে উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুস্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ২৮ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি ও বরিশাল জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর হোসেন, মসজিদের মোতোয়ালি আবু জহির মাসুদ, মসজিদ কমিটির সভাপতি মো: আলী হোসেন, ক্যাশিয়ার মো: আনিছুর রহমান, মো: সিরাজ হোসেন, মো: ইউনুছ মিয়া সহ অন্নান্য মুসল্লিরা। এ সময় মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন ডিবি পুলিশ কতৃক সাংবাদিক লান্চিত করার ঘটনা অতি দুখ: জনক। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমি মনে করি, সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধাঁ সৃস্টি করেছে ডিবি পুলিশ। বিসয় টি অামি প্রশাসনের উর্দ্বতন কতৃপক্ষের দৃস্টি আকর্ষন করছি। অপর দিকে মসজিদ কমিটির সভাপিতি মো: আলী হোসেন বলেন, একটি স্বাধীন দেশে বসবাস করে ও আমাদের হাত পা বাধাঁ। তবে আমরা সকলে মিলে এক সাথে ঐক্যবধ্য হয়ে মাদকের বিরুদ্বে প্রতিরোধ করলে কোন মাদক ব্যাবসায়ী অপরাধ করার সাহস পাবেনা।
উল্লেখ্য, বরিশাল নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের চহুতপুর মুন্সি বাড়ির পেছনে বিআরটিসি’র কর্মচারী জালাল মিয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবা সহ তার ছেলে ইমরান হোসেন বাপ্পীকে দুই সহযোগীকে আটক করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে এই অভিযানের সময় আঞ্চলিক ৩টি দৈনিকের ৩জন সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তাদের হাত থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ছবি মুছে ফেলে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় বাপ্পীর বাবা বিআরটিসি’র কর্মচারী জালাল মিয়া সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমার পোলায় আর হ্যার দুই বন্ধু ১০পিস (ইয়াবা) লইয়া খাইতে বইছে। হ্যাতে পুলিশ আইছে, আবার আমানেগোও আওয়া লাগে ? আঞ্চলিক দৈনিক বরিশাল প্রতিদিনের ফটো সাংবাদিক মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা ৩জন সাংবাদিক চহুতপুর মুন্সি বাড়ির পেছনে বিআরটিসি’র কর্মচারী জালাল মিয়ার বাড়ি যান। এর আগেই এসআই নিপেনের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের ৯ সদস্যের একটি দল ওই বাসায় ঢুকে বিপুল পরিমান ইয়াবা সহ ইমরান হোসেন বাপ্পী এবং তার দুই সহযোগীকে আটক করে। এ সময় তারা ওই বাসায় ঢুকতে গেলে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের বাঁধা দেয় এবং নগর গোয়েন্দা অফিস থেকে ই-মেইল পাঠিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানানো হয় তাদের। পুলিশের কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়ায় তারা ওই বাড়ির অদুরে অপেক্ষা করতে থাকেন। বেলা ১২টার দিকে একটি লাল ব্যাগ (ইয়াবা) হাতে নিয়ে বাপ্পী সহ ৩জনকে হাতকড়া পড়িয়ে ওই বাসা থেকে বের করে নিয়ে যেতে থাকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। অদুরে অপেক্ষমান ৩ সাংবাদিক এই ছবি তোলেন। আঞ্চলিক দৈনিক ভোরের অঙ্গীকারের স্টাফ রিপোর্টার মো. ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, হাতকড়া পড়িয়ে ৩ আসামী সহ একটি লাল ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার ছবি ফটো সাংবাদিক মনিরুজ্জামান ক্যামেরাবন্দি করার সাথে সাথে গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা হায়েনার মতো তার উপর ঝঁপিয়ে পড়েন এবং তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা ওই স্থানে তোলা সকল ছবি মুছে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন বরিশাল তরুণ সাংবাদিক ফোরামের সহ-সভাপতি ইমরান। এ সময় অপর দুই ফটো সাংবাদিক ক্যামেরা বের করতে চাইলে তাদেরও বাঁধা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা। ফটো সাংবাদিক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ যদি কোথাও মাদকের অভিযান করে, তাহলে সংবাদ কর্মী হিসেবে তারা কেন সেখানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কিংবা ছবি তুলতে পারবেন না। মাদক সহ আটকের ছবি তোলার সময় তাদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ছবি মুছে ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। স্থানীয় দৈনিক বাংলাদেশ বানীর স্টাফ রিপোর্টার এইচএম হেলালের অভিযোগ, মাদক সহ আটকের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে গোয়েন্দা পুলিশ বাঁধা সৃস্টি করে। তারা সাংবাদিকদের ওই ঘরে ঢুকতে না দিয়ে ঘরের দরজা আটকে ইমরান হোসেন বাপ্পীর পরিবারের সাথে দির্ঘক্ষন আপোষরফা করে বলে অভিযোগ তার। ঘটনার শিকার ফটো সাংবাদিকরা বলেন, স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। সোর্সের দেওয়া খবর অনুযায়ী ওই ঘর থেকে ২৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। ২মাস আগে ইমরান হোসেন বাপ্পী ইয়াবা সহ গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ছাড়া পায়। এ ঘটনার কয়েকদিন পর সে আবারও মাদক সহ আটক হয়। এবার আদালত থেকে জামিন পাওয়ার কয়েকদিন পর গতকাল আবারও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক হলো। আঞ্চলিক দৈনিক বরিশাল প্রতিদিনের সম্পাদক কাজী মফিদুল ইসলাম কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। সেখানে মাদকের সাথে পুলিশের সংশ্লিস্টতা গ্রহনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ছবি মুছে ফেলা চরম অন্যায়। এটা মেটেই আইন সিদ্ধ নয়। এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনারের সু-দৃস্টি কামনা করেন তিনি। অভিযানে নেতৃত্বদানকারী নগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই নৃপেন সাংবাদিকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ছবি মুছে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওই অভিযানে ইমরান হোসেন বাপ্পী এবং তার দুই সহযোগীকে ১৫৫পিস ইয়াবা সহ আটক করা হয়। বাপ্পীর বিরুদ্ধে তিনি নিজে বাদী হয়ে মাদক আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন এবং বাপ্পীর দুই সহযোগীকে বিএমপি এ্যাক্টে গ্রেফতার দেখিয়ে থানায় সোপর্দ করেছেন। বিপুল পরিমান ইয়াবা উদ্ধার করে মাত্র ১৫৫পিস জব্দ দেখানোর বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন এসআই নৃপেন

 

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net