বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কিশোরী অপহরনের একমাস পরে তাকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে অপহরনকারী সান্টু সরদার ওরফে কালাম (৪৫) কে। গ্রেফতারকৃত কালাম আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাগধা গ্রামের মোহাম্মদ আলী সরদারের ছেলে। তাকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। যে বিষয়ে মুঠোফোনে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা জানান, মুলত কালাম একজন প্রতারক। সে প্রেমের অভিনয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বেশ কিছু নারীকে বিয়ে করেছে। যেটা তার অভ্যেসে পরিনত হয়েছে। তবে কোন নারীই তার সাথে বেশিদিন ছিলো না। আর অপহরনকারী কিশোরীকে কালাম ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ওই কিশোরী শিকার হয় নির্যাতনের। প্রযুক্তির মাধ্যমে শুক্রবার রাতে কালামকে ঢাকার কুড়িল এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওইসময় অপহৃতা কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। যাদেরকে আজ বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত কালামকে আগামীকাল আদালতে তোলা হবে। সেখানে যদি সে তার অপকর্মের কথা স্বীকার করে তবে আর তার রিমান্ড চাওয়া হবে না। ওসি জানান, কালাম পুলিশের কাছে এ পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে ৯ নারীকে বিয়ে করার বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে কালামের বিয়ের সংখ্যা এর দ্বিগুনেরও বেশি হতে পারে বলে পুলিশের অন্য একটি সূত্র দাবী করছে। উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার কালারবাড়ি গ্রামের ফজলুল হক খানের মেয়ে মাদ্রাসা ছাত্রী কাজলী আক্তার (১৫)কে পয়সারহাট লোকাল বাসস্ট্যান্ড থেকে অপহরন করে নিয়ে যায় আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাগধা গ্রামের সান্টু সরদার ওরফে কালাম । মাদ্রাসা ছাত্রী কাজলী আক্তার আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাট গ্রামে মামা বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত। এঘটনায় অপহৃতা কাজলীর পিতা ফজলুল হক খান বাদী হয়ে সান্টু সরদারসহ পাঁচ জনকে আসামী করে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের একমাস পরে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার কুড়িল এলাকার একটি বাসা থেকে শুক্রবার রাতে অপহৃতা কাজলী আক্তারকে উদ্ধার ও অপহরনকারী সান্টু সরদারকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাহিদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সান্টু সরদার অপহরনের কথা স্বীকার করেন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply