দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ে করার বাসনা নিয়ে প্রথম স্ত্রীকে ঘরছাড়া করার উদ্দেশ্যে এক সপ্তাহ ধরে খেতে না দিয়ে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পলাশ হাওলাদার নামে এক পাষণ্ড স্বামীর বিরুদ্ধে। স্বামীর এমন আমানবিক নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে হতভাগ্য স্ত্রী ডলি বেগম।
ডলির খালা লিলি বেগম জানান, ডলির বয়স যখন ছ’মাস তখন তার বাবা-মা মারা যান। এরপর থেকে আমাদের কাছেই ডলি বড় হয়েছে। বর্তমানে তারা বরিশাল নগরীর মুনসুর কোয়ার্টার এলাকায় বসবাস করছেন। তিন মাস আগে ডলি ওই এলাকার নৈশপ্রহরী পলাশ হাওলাদারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ঘর ছাড়ে। পরে আবার ফিরে এলে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকে পলাশ ও তার মা ডলির ওপর মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তিনি বলেন, পুনরায় বিয়ের জন্য পলাশ ও তার মা এ কাজ করেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়নি বলেও তিনি জানান।
হতভাগ্য ডলি বেগম জানায়, পলাশ ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার আমুয়ার ৩নং ওয়ার্ডের রুস্তুম আলীর ছেলে। ওই বাড়িতেই স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির সঙ্গে আমি থাকতাম। বিয়ের মাত্র ২ মাসের মধ্যে পলাশ ও তার মা একত্রে আমার ওপর কারণে-অকারণে নির্যাতন শুরু করে। মাঝেমধ্যে মারধর করে। খাবারও দেয়া হতো না। চাচা শ্বশুরের ঘরে গিয়ে খাবার খেলে তাতেও বাধা দেয় পলাশ ও তার মা। ডলি আরো জানায়, এ কারণে গত সাত দিন ধরে তেমন কোনো খাবার জোটেনি তার ভাগ্যে। একপর্যায়ে লবণ মেশানো পানি খেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ি।
পলাশের চাচি মাকসুদা বেগম জানান, দেড় মাস ধরে পলাশের সঙ্গে ডলির বনিবনা হচ্ছিল না। আমরা পলাশকে বারবার জিজ্ঞাসা করেছি কি কারণে ডলিকে রাখবে না। তার উত্তরে পলাশ জানিয়েছে সে দ্বিতীয় বিয়ে করবে। এ নিয়ে আগামী শুক্রবার সালিশ মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোববার দুপুরে আমরা জানতে পারি ডলি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পড়ে তাকে উদ্ধার করে আমুয়া হাসপাতালে ভর্তি করি। অবস্থার অবনতি হলে শেরেবাংলা মেডিকেলে নিয়ে আসি।
এ বিষয়ে জানতে পলাশ হাওলাদার ও তার মার কাছে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply