যৌতুকের দাবীতে স্ত্রীর শরীরে বৈদ্যুতিক আয়রনের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগে স্বামী সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ১১ অক্টোবর বুধবার বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সুদীপ্ত দাস বিচারাধীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের হয়। নগরীর ভাটিখানা সাহা পাড়া এলাকার নির্যাতিতা ফেরদৌসি খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তার স্বামী কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হুদা,শ্বশুর রেজাউল ইসলাম, শাশুড়ি ডালিয়া ইসলাম, ননদ তামান্না বিনতে ইসলাম ও ভাশুর নূরুল হুদা শাওনকে অভিযুক্ত করা হয়।তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে তিনি বলেন,২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর নাজমুলের সাথে তার বিয়ে হয়। তিনভরি স্বর্ণ দিয়ে তার মা তাকে তুলে দেন। নাজমুল তার সব স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে নেয়।বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই অভিযুক্তরা তার কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে না পেয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ অভিযোগে ঢাকা সি এম এম আদালতে মামলা দায়ের করলে মিমাংসার শর্তে নাজমুল জামিন পায় এবং পুনরায় সংসার শুরু করে। তাদের দুটি পুত্র সন্তান হয়। অভিযুক্তরা পুনরায় যৌতুকের লোভে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে।অপারগতা প্রকাশ করলে একমাস পূর্বে বেধড়ক মারধর করে আহত বানায়। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলে অভিযুক্তরা আরো ক্ষিপ্ত হয়। গত ৪ অক্টোবর দাবিকৃত যৌতুকের টাকা চায়। দিতে অস্বীকার করলে প্রথমে কিল ঘুষি দেয়। এক পর্যায়ে পাষণ্ড স্বামী তার বাম হাতে উত্তপ্ত ইলেক্ট্রনিক আয়রন চেপে ধরে হাত ঝলসে দেয়।হাতের বিভিন্ন স্থানে আয়রনের ছেকা দিয়ে ফোসকা ফালায়। ডাক চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। কিছুটা সুস্থ হয়ে আদালতে এসে মামলা দায়ের করলে আদালত বিসিসির ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন বলে আদালত সূত্র জানায়।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply