অবশেষে ১৫ তম বিয়ের আসরে আটক হয়েছেন বরিশাল জজ আদালতের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী বিয়ে পাগল মনজুর আলম ও বিয়ের ঘটক আবু হানিফ। আটককৃতদের শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। আটকের ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার দুপুরে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত বলাইবাড়ী গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার কনে পক্ষ বিয়ের সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছিলো। শতাধিক বরযাত্রীকে আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুতছিলো কনে পক্ষের লোকজন। যথাসময়ে বরযাত্রীসহ উপস্থিত হয় বর মনজুর আলম (২৮)। এর মাত্র তিনদিন আগে একলাখ টাকা দেন মোহরে সম্পন্ন হয় বিয়ের রেজিষ্ট্রি কাবিন। তবে বিধিবাম ১৫তম স্ত্রীকে তুলে নেয়ার পূর্ব মূহুর্তে ফাঁস হয়ে যায় বিয়ে পাগল মনজুর আলমের পূর্বের বিয়ের সকল কাহিনী। ফলে পন্ড হয়ে যায় বিয়ের সকল আয়োজন। চেতনা হারিয়ে লুটিয়ে পরেন ভবিষ্যত স্বামী সন্তানের স্বপ্নে বিভোর নববধূর সাজে অপেক্ষমান কনে। উৎসবের সকল আয়োজনে নেমে আসে বিষাদের ছাঁয়া। অবস্থা বেগতিক দেখে কৌশলে একে একে পালিয়ে যায় বরের সাথে আসা বরযাত্রীরা। একপর্যায়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বর বরিশাল জজ আদালতের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী মনজুর আলম ও বিয়ের ঘটক আবু হানিফকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করেন।
কনের ভাই রাজাপুর উপজেলার বলাইবাড়ী গ্রামের মৃত সোবাহান তালুকদারের পুত্র আল-আমিন জানায়, ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বেরপাশা গ্রামের সোবাহান হাওলাদারের পুত্র বরিশাল জজ আদালতের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী মনজুর আলমের সাথে তার বোন রাজাপুর ডিগ্রী কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী সাথী আক্তারের বিয়ে কথা চুড়ান্ত হয়। স্থানীয় ঘটক আবু হানিফের মধ্যস্থতায় গত ২০ ফেব্রুয়ারী উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের কাজী অফিসে একলাখ টাকা দেন মোহরে রেজিষ্ট্রি কাবিনও করা হয়। তিনি আরও জানান, ঘটক হানিফ আটককৃত মনজুরের পূর্বের বহুবিবাহের বিষয়টি জানলেও সেই তথ্য গোপন করে এই বিবাহের আয়োজন করে।
বিয়ের আসরে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয় উপজেলার বাইপাস গ্রামের ইউনুস খানের কন্যা ও মনজুরের ১৪ তম স্ত্রী পারভীন বেগম (১৯)।
তিনি জানান, বিয়ের পর তিনি মনজুরের বহুবিবাহের খবর জানতে পারেন। পারভীন আরও জানান, দেড় বছর পূর্বে মনজুরের সাথে একলাখ টাকা দেনমোহরে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সে বিভিন্ন সময় মোটা অংকের টাকা যৌতুক দাবি করলেও তার পিতার পরিবার দরিদ্র হওয়ায় টাকা দিতে পারেননি। সেজন্য মনজুর তাকে প্রায়ই শারিরিক নির্যাতন করতো। সর্বশেষ গত আটদিন আগে টাকা তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে মনজুর চলে যায়। এরইমধ্যে কৌশলে সে (মনজুর) পূর্ণরায় ১৫তম এ বিয়ের আয়োজন করে। লোকমুখে খবর পেয়ে তিনি কনের বাড়িতে এসে মনজুরের বহুবিবাহের রহস্য ফাঁস করে মনজুরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুর হোসেন জানান, তার কাছে বিভিন্ন সময় মনজুরের ৫/৬টি বিয়ের অভিযোগ এসেছে। এসব বিয়ের মধ্যে তিনি বেশ কয়েকটির বিরোধের মীমাংসা করেছেন। বহু বিয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে থানা হাজতে আটককৃত মনজুর আলম সাংবাদিকদের জানায়, ১৪টি নয়, এখন পযর্ন্ত পাঁচটি বিয়ে করেছি। রাজাপুর থানার পরিদর্শক শেখ মুনির-উল গিয়াস বলেন, কনের ভাইয়ের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটক মনজুর আলম ও ঘটক আবু হানিফকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply