নলছিটি প্রতিনিধি : বিয়ের দাবিতে অনশনকারী প্রেমিকাকে মধ্যরাতে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে ফিল্মি স্টাইলে তুলে নিয়ে গেছে কতিপয় সন্ত্রাসী, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রেমিকের বাড়ি থেকে তার আত্মীয়-স্বজনরা পিটিয়ে বের করে দিলে অন্তঃসত্ত্বা ওই প্রেমিকা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জেসমিন আক্তারের হেফাজতে ছিলেন। গত বুধবার রাত ২টার দিকে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বিয়ের দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের বিরাট গ্রামের মান্নান মল্লিকের ছেলে মিঠু মল্লিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন রাহিমা খাতুন লাকী নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই প্রেমিকা। বুধবার বিকেলে মিঠুর আত্মীয়-স্বজন ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি ও টানাহেঁচড়া করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে এলাকাবাসীরা লাকীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় চেয়ারম্যান কাজী জেসমিন আক্তারের বাড়িতে পৌঁছে দেন। এরপর রাত আনুমানিক ২টার দিকে মিঠুর দুলাভাই সাবেক ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান,মিঠুর চাচা সেকান্দার মল্লিক, স্বপন খন্দকার, সহ আরো ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী ফিল্মি স্টাইলে স্থানীয় চৌকিদার ও কেয়ারটেকারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চেয়ারম্যানের জেসমিন আক্তারের হেফাজতে থাকা ওই প্রেমিকাকে তুলে নিয়ে যায়। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রেমিক মিঠুর পরিবারের সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তিতে বিএনপি নেতা রিমনসহ আরো কয়েকজন মিলে অনশনরত প্রেমিকাকে গ্রাম থেকে সরিয়ে দিয়েছেন । অনশনকারী প্রেমিকা রাহিমা খাতুন লাকী বলেন, নুরুল আলম গিয়াস মাঝি ও জহিরুল ইসলাম রিমন ওই দিন মধ্যরাতে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে চেয়ারম্যানের বাসা থেকে আমাকে নিয়ে এসেছেন। নুরুল আলম গিয়াস মাঝি আপাতত চলার জন্য তাকে (লাকী) হাত খরচ বাবদ ২ হাজার টাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। রোববার বিকেলে দপদপিয়া ইউনিয়নে এ ব্যাপারে একটি সালিশ বৈঠক বসার কথা রয়েছে। এদিকে লাকীকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আলম গিয়াস বলেন, আমি অনশনের ঘটনা শুনেছি। এ ব্যাপারে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান কাজী জেসমিন আক্তার বলেন, আমি এলাকায় না থাকার সুযোগে রাতের আধারে একটি গ্রুপ আমার বাসা থেকে ওই মেয়েটিকে নিয়ে গেছে। বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এলাকায় ফিরে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিব। উল্লেখ্য গত ৮ অক্টোবর রাহিমা খাতুন লাকী মিঠু মল্লিকের বাড়ীতে বিয়ের দাবিতে অনশন করলে মিঠু মল্লিকের চাচা সেকান্দার মল্লিক, দুলা ভাই মোঃ খলিলুর রহমান ও খন্দকার স্বপনসহ এলাকার লোকজন ভিকটিম রাহীমাকে প্রতিশ্রুতি দেন যে তোমার আগের স্বামীকে যে ডিভোর্স দিয়েছো তার কাগজপত্র নিয়ে আসলে আমরা তোমাকে মিঠু মল্লিকের সাথে বিয়ের ব্যাবস্থা করবো । গত ১০ অক্টোবর রাহিমা খাতুন কাগজপত্র নিয়ে হাজির হলে মিঠু মল্লিকের পরিবার ঘড়ে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় এবং খলিল মেম্বার বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে বাড়ী ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দামকি প্রদান করতে থাকে । নলছিটি থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল হালিম তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply