খবর বরিশাল ডেস্কঃ একাধিক বিয়েসহ নানা অভিযোগে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিথি আক্তার নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। প্রতারণার অভিযোগে ছিলেন হাজতেও। তবুও নিজেকে না শুধরে তৈরী করেছেন প্রতারক চক্র। যাদের মূল টার্গেট সম্পদশালী, ধনী ব্যবসায়ী ও উচ্চপদের চাকরিজীবী ব্যাক্তিরা। বিথি বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের সারসি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ হোসেনের মেয়ে। জানা যায়, বিথির প্রথম বিয়ে হয় নগরের সাগরদীর বাসিন্দা মোঃ রুমির সাথে। সেই সংসারে তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। তবে উশৃঙ্খল জীবযাপন ও উগ্র আচরণে বিচ্ছেদ হয় তাদের প্রথম সংসারে। এরপর দ্বীতিয় সংসার বাধেন নগরের করীম কুটির এলাকার বাসিন্দা রাকিব নামের এক যুবকের সাথে, কিন্তু সেই সংসারও টেকেনি বেশি দিন।
বিথির প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, নিজের রূপকে কাজে লাগিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে সমাজের উচ্চবিত্ত পরিবারের তরুণ থেকে বৃদ্ধ শ্রেণির লোকদের সর্বস্ব লুটে নেয়া বিথির নেশা-পেশা। এসকল অভিযোগের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিথি আক্তার প্রথমে টার্গেট নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে কাঙ্খিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে সুযোগ বুঝে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট ডেরায় নিয়ে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে লিপ্ত হন। যা গোপন ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও ধারণ করেও রাখেন তিনি। পরবর্তীতে এই ভিডিও দিয়ে তিনি ও তার চক্রের সদস্যরা বিরাট অংকের চাঁদা দাবি করতেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অন্তরঙ্গ ছবি ভিডিও তাদের আত্মীয়-স্বজনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করার অভিযোগ রয়েছে বিথি চক্রের বিরুদ্ধে।
একাধিক ভুক্তভোগীর মধ্যে বরিশাল বাজার রোডের ধর্নাঢ্য এক ব্যবসায়ীকে স্বর্বশান্ত করার অভিযোগ রয়েছে বিথির বিরুদ্ধে। বিথি কর্তৃক ব্ল্যাকমেইলিং এর শিকার হয়েও মান সম্মান ও লোকলজ্জার ভয়ে বাজার রোডের ঐ ব্যবসায়ী নিজের পরিচয় গোপন রাখতে অনুরোধ করেছেন প্রতিবেদককে।
সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর গাবতলি এলাকার ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ এর ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মকবুল আহম্মেদ খানকে ফাঁদে ফেলে তার সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন বিথি আক্তার। পরে ঐ ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ এর ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মকবুল আহম্মেদ খানের ব্যবহৃত ০১৭১৩০০৬৮১৪ নাম্বারে বিথি ও তার অন্তরঙ্গ ভিডিও পাঠিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাদাবী করেন বিথির চক্রের সদস্যরা।
বিথির ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের সদস্যদের ব্যবহৃত ০১৮১৯৩৮৫৮৬২, ০১৭১৪৩৩৪৬৭, ০১৫১৭৩৮১৪৯৭, ০১৬৭৭০৩২২৬০ নাম্বার থেকে মকবুল আহম্মেদ খানের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে নগ্ন ভিডিও পাঠানো হয়েছিল। পরে এই ঘটনায় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ এর ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মকবুল আহম্মেদ খানের পক্ষে বিথি আক্তার ওরফে সোনিয়া আক্তার ওরফে আয়েশা আক্তার(৩২), তার সহযোগী শাহরিয়ার আলম সোহান (৩১), আবু বক্কর সিদ্দিক ইমন(২৮), ইব্রাহিম শেখ শুভ (২৮), তরিকুল ইসলাম তারেক(৩১)কে আসামী করে ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ইউনিভার্সিটির লিগ্যাল এ্যাডভাইজার গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার বাসিন্দা মৃত মুন্সী আজাহা উদ্দিনের পূত্র এ্যাডভোকেট মুন্সি আঃ রহমান (৭৩)। মামলা নং-৫৬/২২।
মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের হোতা বিথি আক্তারকে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা সংলগ্ন কাঠপট্টি রোডস্থ তার নিজস্ব বাসভবন রাজিব ম্যানশনে ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিবি সাইবার) এর এসআই মোঃ ছানোয়ার হোসেন ও তার সঙ্গিয় টিম অভিযান চালিয়ে বিথি আক্তারকে গ্রেপ্তার করেন। পরে ঢাকায় নিয়ে বিথিকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করেন। বিথির কাছ থেকে জব্দকৃত মোবাইল থেকে একাধিক ব্যক্তির নগ্ন ভিডিও পাওয়া যায়।
পরে ব্ল্যাকমেইলিং মামলায় জেল খেটে জামিনে বের হয়ে ২০২২ বিথি আক্তার বাদী হয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ এর ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ মকবুল আহম্মেদ খানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ঢাকা নারী ও শিশু পিটিশন আমলী আদালত-৮ এ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্ট্রিকেশন (পিবিআই)কে তদন্ত দিলে (পিবিআই) ইন্সেপেক্টর মোঃ জুয়েল আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে মামলাটি খারিজ করে দেয় বিচারক।
শুধু ব্যবসায়ী ও শিক্ষক নন জানা গেছে, প্রতারক বিথি আক্তার ওরফে আয়েশা আক্তার বরিশাল নগরীর কাশিপুরের দারসুল কুরআন একাডেমির পরিচালক মুবিনুল ইসলাম (২৫)কে বিয়ে করতে ফাঁদ পাতেন। পরে তাকে কোনভাবে বশ করতে না পেরে ব্ল্যাকমেইলিং শুরু করেন বিথি। এমনটাই জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মুবিনুল ইসলাম।
তিনি, তার পরিচালিত মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে ২০২২ সালে বিথি আক্তারের প্রথম ঘরের সন্তান জিব্রাইল আমিনকে হিফজ বিভাগে ভর্তি করেন তার পিতা মোঃ রুমি। কোনভাবে পূত্রের খবর পেয়ে আমার প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রহরীকে ম্যানেজ করে আমার অজান্তে জিব্রাইল আমিনকে মাঝে মধ্যে দেখতে আসত বিথি।
সন্তানের কাছে প্রতিষ্ঠানে আসা যাওয়ার সুবাদে বিথি আমাকে একদিন বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আমার স্ত্রী আছে একথা তাকে জানালেও তিনি আমার পিছু ছাড়েনি। বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইলিং করার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। কোন একদিন সুযোগ বুঝে আমার অফিস কক্ষ থেকে আমার ব্যক্তিগত ব্যাংক এ্যাকাউন্টের চেকের পাতা চুরি করে নিয়ে যায় বিথি। যা নিয়ে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে বিথি আক্তারকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। যার মামলা নং-১০০/২৪।
আর অপরদিকে ভুক্তভোগীর মামলা দায়েরের পর থেকেই বিথির অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়। তিনি তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। যার প্রেক্ষিতে গত ৩০ আগস্ট বিকাল ৩টার দিকে বিথির বড়বোন নুপুর দারসুল কুরআন একাডেমিতে আসে। বিথির বড়বোন নুপুর প্রতিষ্ঠানে আসার কয়েক মিনিট পরই বিথি ও তার দুলাভাই নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা মোঃ খোকন একাধিক সাঙ্গপাঙ্গদের সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তার স্ত্রীর সাথে মুবিনুল এর অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তাকে লাঞ্ছিত করেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত বিথি আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply