বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৩৩

শিরোনাম :
স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতে সুরক্ষা দরকার-প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান

স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতে সুরক্ষা দরকার-প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক
সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিত না করা গেলে গণমাধ্যমকে কার্যত রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভে পরিণত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম। তিনি বলেছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে হলে সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। এ লক্ষ্যে একটি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রোববার (১৮ মে) দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ‘গণমাধ্যমে অপ-সাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ পরিবেশ’ শীর্ষক এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বলেন, “সাংবাদিকতার পেশাকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। গণমাধ্যমকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং নিজস্ব মতামত প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে। পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ মানুষের আস্থা নষ্ট করে। নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতা গণমাধ্যমের প্রধান শক্তি হওয়া উচিত।”

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ওবায়েদুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন বরিশাল আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মোসা. আফরোজা নাইস। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ৪০ জন সাংবাদিকের হাতে সনদপত্র তুলে দেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। বিচারপতি হাকিম বলেন, “তথ্য প্রকাশে অসাবধানতা বা ভুল হতে পারে। তবে ভুল হলে দুঃখপ্রকাশ ও সংশোধনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। এতে গণমাধ্যম আরও গ্রহণযোগ্য হয় এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরাও সন্তুষ্ট হন।”

তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানেই অপরাধী নয়, এটা মাথায় রাখা উচিত। বিচার ছাড়া কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা সংবাদপত্রের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করা জরুরি এবং বিচার বিভাগ ও আইনকে সম্মান জানাতে হবে। একইসাথে মানহানিকর বিষয় প্রচারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদের সূত্র প্রকাশে সাংবাদিককে বাধ্য না করার নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “এটাই একজন সাংবাদিকের স্বাধীনতা ও সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তবে নিশ্চিত করতে হবে, প্রকাশিত তথ্য যেন নির্ভরযোগ্য, সময়োপযোগী ও বস্তুনিষ্ঠ হয়।” সাংবাদিক সমাজে বিভাজনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “সাংবাদিকরা যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই একাধিক প্রেস ক্লাব। সিলেটে আটটি, মৌলভীবাজারে সাতটি প্রেস ক্লাবের অস্তিত্ব রয়েছে। অথচ প্রেস ক্লাব হওয়া উচিত একক সংগঠন, যা সৌহার্দ্য ও মতবিনিময়ের জায়গা। অতিরিক্ত বিভাজন পেশাদারিত্বে আঘাত হানে।”তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, “পেশাদারিত্ব রক্ষা করতে হবে, নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞান বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।”

 

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net