খবর বরিশাল ডেস্কঃ
বরিশালে বিএনপি নেতাসহ দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ১৩ বছর বয়সী এক গৃহপরিচারিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। অভিযুক্তরা হলেন শহরের নবগ্রাম রোড ২২নম্বর ওয়ার্ডের যুবক হাউজিং এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মহসিন খান বাশার এবং তার চাচাতো ভাই মো. শাহিন ওরফে ঝিনুক।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে রাতেই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানা থেকে একদল পুলিশ কিশোরীটিকে উদ্ধার করে। তবে এ সময় অভিযুক্ত দুই ভাইকে আটক করা সম্ভব হয়নি; তারা গা-ঢাকা দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও ‘খান বিল্ডার্স অ্যান্ড হাউজিং’-এর মালিক মহসিন খান বাশারের বাসায় ওই কিশোরী গৃহপরিচারিকার কাজ করতো। একইসঙ্গে বাশারের একটি ভাড়া বাসায় কিশোরীর ভাই ও ভাবি বসবাস করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর অভিযোগ, বাড়ির মালিক বিএনপি নেতা মহসিন খান বাশার এবং তার চাচাতো ভাই শাহিন (ঝিনুক) বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেন। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি ফাঁস হলে দুই ভাই তাকে ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা চালান।
মঙ্গলবার বিকেলে কিশোরীটি একাধিক স্থানীয় মিডিয়ার কাছে সাক্ষাৎকার দিলে, এরপরই বিএনপি নেতা বাশারের ভাই শাহিন (ঝিনুক) ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান ভুক্তভোগীর ভাই নয়ন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ কিশোরীটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মহসিন খান বাশার বলেন,“এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। মেয়েটি নাকি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা—কিন্তু আমাদের বাড়িতে সে কাজ নিয়েছে মাত্র তিন মাস আগে। তাহলে কিভাবে এই ঘটনা সম্ভব? ডিএনএ টেস্ট হলেই সব সত্য বেরিয়ে আসবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই বাশার ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সাংবাদিক ও পুলিশসহ বিভিন্ন মহলে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, কিশোরী মিডিয়ার কাছে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর বিএনপি নেতা বাশার পুলিশ ও সাংবাদিকদের ‘ম্যানেজ’ করার তৎপরতা শুরু করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পরিবারকে বাসা থেকে উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
স্থানীয় বিএনপির একাংশ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে মহসিন খান বাশার নিজেকে নবগ্রাম এলাকায় বিএনপি নেতা পরিচয়ে সক্রিয় করেন এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাদের দাবি, “সর্বশেষ এই ধর্ষণকাণ্ড তার রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারের একটি চরম উদাহরণ।”
এ খবর লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মহসিন খান বাশার ও তার ভাই শাহিন ওরফে ঝিনুক পলাতক রয়েছেন। ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে, এবং তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্নের পর আদালতে জবানবন্দি নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply