*ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা
এইচ আর হীরা:
বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে যেন অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে। দালালদের দৌরাত্ম্যের পাশাপাশি পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় ঘুষ ছাড়া সেবা না মেলার অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও। ফলে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা।
অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের ভেতরে ও বাইরে দালালচক্রের প্রভাব এতটাই ব্যাপক যে, “টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না” এমন ধারণাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে। অফিসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক সেবাগ্রহীতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে তাদের অনেকে অভিযোগ করেন, ভোগান্তি এড়াতে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়েছে তাদের কাছে।
শুধু বাহিনীর কিছু সদস্যই নয়, অভিযোগ রয়েছে, অফিসের ভেতরের কিছু কর্মচারী ও বাইরে থাকা দালালরা মিলে গড়ে তুলেছে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট। পাসপোর্ট অফিস ঘিরে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অর্ধশতাধিক কম্পিউটার দোকানও এই চক্রের অংশ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিভিন্ন উপজেলায়ও রয়েছে এদের নিজস্ব সহযোগী নেটওয়ার্ক। জানা গেছে, একটি পাসপোর্ট পেতে ২ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় সেবাগ্রহীতাদের। কাঙ্ক্ষিত টাকা না দিলে আবেদনপত্র আটকে যাওয়া, তথ্য যাচাইয়ে বিলম্ব বা পুলিশ ভেরিফিকেশনে সমস্যা তৈরি হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। তারা দাবি করেন, নিয়ম মেনেই সব কার্যক্রম চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপপরিচালক রোজী খন্দকার বলেন, “উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না।”
অন্যদিকে বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, “অনিয়মের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। পাসপোর্ট অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত ও ভোগান্তিহীন করতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে দালালচক্রের দুই সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার মানুষ এ অফিসে সেবা নিতে আসেন।
দুর্নীতিমুক্ত পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে সাধারণ মানুষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply