, ,

শিরোনাম :
‘গ্রাম পুলিশ হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের সরকার’: জহির উদ্দিন স্বপন নতুন এমপিওভুক্ত হলেন ৩৭৬ শিক্ষক-কর্মচারী বরিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২-এর উদ্বোধন বরিশাল মহানগরীর উন্নয়নে ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন প্রান্তিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা ও সেবা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: এমপি স্বপন ঝাড়ফুঁকের নামে কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, কবিরাজের বিরুদ্ধে মামলা ​বরিশালের সেরা প্যানেল আইনজীবীর সম্মাননা পেলেন অ্যাড. মো: তারিকুল ইসলাম ভ্যানচালকের ঘরে দুটি ‘কবর’ জেগে উঠেছে বলে দাবি, ঝাড়ফুঁক নিতে ভিড় ‘আ.লীগ গোপনে নয়, ওপেনে ঢাকা দখল করবে’ পোস্টের পর ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার ধর্মকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা বন্ধ করতে হবে: জহির উদ্দিন স্বপন

আধুনিক সাজে শেবাচিমের সিসিইউ বিভাগ

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্কঃ

দীর্ঘ এক যুগের জীর্ণতা, বিকল যন্ত্রপাতি আর গরমে নাকাল রোগীদের ভোগান্তি কাটিয়ে নতুন রূপে চালু হচ্ছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ (কার্ডিওলজি) বিভাগের করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)।

সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আধুনিক সুবিধাসংবলিত এই ইউনিটের, যা বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহু বছরের প্রত্যাশার বাস্তব রূপ নিতে যাচ্ছে।

একসময় রোগীদের চিকিৎসার চেয়ে কষ্ট ছিল গরমে। একে একে বিকল হয়ে গিয়েছিল ৮টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি)। সরকারি হিসেব অনুযায়ী বেড ছিল ৮টি, কিন্তু ভর্তি থাকত ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী। কেউ পেতেন শয্যা, কেউ মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হতেন।

২০১৪ সালের এপ্রিলে নতুন আইসিইউ ভবন উদ্বোধনের পর দ্বিতীয় তলায় স্থানান্তরিত হয় সিসিইউ বিভাগ। তখন নতুন বেড, মনিটর ও এসি বসানো হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই বিকল হয়ে পড়ে যন্ত্রপাতি। ভাঙা টয়লেট, বিকল এনজিওগ্রাম মেশিন ও জনবল সংকটে তখন রোগীদের দুর্ভোগ ছিল চরমে।

বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীরের উদ্যোগে সিসিইউ বিভাগটি এখন সম্পূর্ণ নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। নতুনভাবে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক বেড, কার্ডিয়াক মনিটর, অক্সিজেন লাইন, সেন্ট্রাল এসি, দেয়ালের সংস্কার, এমনকি নির্মিত হয়েছে চারটি নতুন টয়লেট।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আধুনিক মান বজায় রেখে সাজানো নতুন সিসিইউ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। রোগীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি আরামদায়ক ও নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. অসিম বিশ্বাস বলেন, “শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি আনলেই হবে না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণই আসল বিষয়। এখানে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার না থাকায় একটি মেশিন নষ্ট হলে মেরামত করতে সপ্তাহ লেগে যায়। ততদিনে সেটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়ে।”

তিনি আরও জানান, “নতুন সিসিইউতে এখন ২২টি বেড রয়েছে। তবু রোগীর চাপ এত বেশি যে অনেকেই এখনও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে ৮ জন রেজিস্ট্রার ও মেডিক্যাল অফিসার ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন, যেখানে প্রয়োজন অন্তত ১২ থেকে ১৪ জন। নার্স আছেন ৩৪ জন, দরকার ৬০ জন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীও কম, ৮ জনে তিন পালায় দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। নিরাপত্তার অভাবও বড় সমস্যা; মাত্র দুজন আনসার সদস্য দিয়ে পুরো ইউনিট পাহারা দেওয়া যায় না।”

সব প্রতিকূলতার মাঝেও নতুন সাজে সিসিইউর উদ্বোধন বরিশালের মানুষের কাছে এক নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বহু বছরের অব্যবস্থাপনা আর অবহেলা পেরিয়ে এবার যেন হাসপাতালের হৃদয়ে ফিরে আসছে নতুন জীবনের স্পন্দন।

একজন প্রবীণ রোগীর স্বজনের ভাষায় “এতদিন সিসিইউ মানেই গরম, ভিড় আর কষ্ট। কাল থেকে হয়তো এই হাসপাতালে আবার বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারব।”

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net