খবর বরিশাল ডেস্ক :
বরিশালের বেলস পার্কে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) আয়োজনে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী উদ্যোক্তা মেলা। তবে উদ্বোধনের আগেই এই মেলা ঘিরে উঠেছে নানা অভিযোগ।স্টল বরাদ্দে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য, এমনকি জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে বিসিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করে স্টল বরাদ্দে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছে। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী একজন উদ্যোক্তার একটি স্টল পাওয়ার কথা থাকলেও, একই ব্যক্তির নামে বা ভিন্ন নামে একাধিক স্টল বরাদ্দের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
একাধিক উদ্যোক্তার অভিযোগ, “একজনকে চারটি, আরেকজনকে দুটি, এভাবে মাত্র ছয়জনের হাতে গেছে ১৬টি স্টল।” অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিসিক বরিশাল জেলা কার্যালয়ের প্রমোশন কর্মকর্তা মো. মোজাহিদুল ইসলাম (আসাদ)। অভিযোগ অনুসারে, তিনি ঘুষের বিনিময়ে স্টল বরাদ্দে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জানা গেছে, নির্ধারিত ফি’র বাইরে ১২ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ কাজের দায়িত্ব পেয়ে মাঠে কাজ করেছেন ‘জহির’ ও ‘রাজিব’ নামে দুই ব্যক্তি। তাদের মাধ্যমে গোপনে অর্থ লেনদেন করে পছন্দমতো স্টল বরাদ্দের অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক উদ্যোক্তা জানান, যারা অতিরিক্ত অর্থ দিয়েছেন তাদের দেয়া হয়েছে মূল গেট সংলগ্ন ভালো জায়গা, আর যারা নিয়ম মেনে আবেদন করেছেন, তাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে মেলার একেবারে কোণায়। বিসিকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মেলায় দেশীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পপণ্য ছাড়া বিদেশি পণ্য বিক্রি করা যাবে না। অথচ মেলায় খোলা চোখেই দেখা গেছে ভারত, চায়না ও বার্মিজ পণ্যে ভর্তি একাধিক স্টল। উদ্যোক্তা মেলার ২৬, ৩০, ৪৭, ৫৩, ৫৬, ৫৯, ৬১, ১৬, ১৮ ও ২২ নম্বর স্টলে এসব বিদেশি পণ্য বিক্রি হচ্ছে প্রকাশ্যে।
বিসিক কর্মকর্তারা বিষয়টি জেনেও কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া, সরকারি তালিকায় যেখানে ৬৫টি স্টলের কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে মাঠে রয়েছে ৮২টি স্টল। এর মধ্যে কয়েকটি স্টল খোলা আকাশের নিচে বসানো হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত। একজন ক্ষুব্ধ উদ্যোক্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমি ৯ হাজার টাকা অফিসিয়াল ফি দিয়েছি, কিন্তু স্টল পাইনি। পরে অন্য কেউ একই স্টল ১২ হাজার টাকায় নিয়ে নিয়েছে। স্টলগুলো যেন নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।”
অন্য একজন স্টলধারী অভিযোগ করেন, “নির্দেশিকায় বলা আছে প্রতিটি স্টল ৮x৮ ফুট এবং ফ্যানসহ হবে। কিন্তু এখানে স্টলের মাপ ছোট, কোনো ফ্যান নেই, এমনকি প্রচার-প্রচারণার কোনো ব্যবস্থা পর্যন্ত করা হয়নি।” মেলা ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকার চকবাজার ও চাইনিজ পণ্যে ঠাসা স্টলগুলোর ভিড়ে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দেখা মেলা দুষ্কর। কেবল একজন স্থানীয় উদ্যোক্তার স্টলে পাওয়া গেছে নারিকেলের আইচা দিয়ে তৈরি দেশীয় কারুশিল্পের কিছু পণ্য। শাওন নামের এক দর্শনার্থী বলেন, “নামে উদ্যোক্তা মেলা, কিন্তু পণ্যগুলো বিদেশি ও মানহীন।
ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে, অথচ বিসিক কর্মকর্তারা দেখেও দেখছেন না।” এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিসিক বরিশালের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম জানান, “আমি ঢাকায় আছি। অফিসে এসে বিস্তারিত তথ্য নিন।” অন্যদিকে প্রমোশন কর্মকর্তা মোজাহিদুল ইসলাম (আসাদ) বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো বক্তব্য দিতে পারবো না।” তবে বিসিকের বিপণন বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক শেফালী খাতুন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। বিদেশি পণ্য বিক্রি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
” জানা গেছে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও বিপণন বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই মেলার আয়োজন করে বিসিক। কিন্তু নিয়ম না মেনে স্টল বাণিজ্যে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে এই মেলার উদ্দেশ্য এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply