সোহেল হাওলাদার, বাকেরগঞ্জ
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ৯ নং কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরাকে পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তিকে সভাপতি করায় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে করেছেন বিক্ষোভ।
গত ২২ নভেম্বর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ’র স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মিজানুর রহমান নাসিমকে সভাপতি ও আল আমিন মোল্লাকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কলসকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি অনুমোদন দেয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ইরাক পাঠানোর কথা বলে ২০১৬ সালের ৩০ মে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেন মিজানুর রহমান নাসিম। প্রতিশ্রুত বিদেশ যাত্রা নিশ্চিত না করে দীর্ঘদিন ঘোরানোর পর টাকা ফেরত দিতেও অস্বীকৃতি জানান তিনি। পরে ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করলে আদালত দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার অভিযোগ আমলে নেন।
মামলার শুনানি শেষে আদালত তাকে ১ বছর ৬ মাসের স্বশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেলে কলসকাঠী বাজার এলাকায় নবগঠিত কমিটিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে নবগঠিত কমিটির সদস্য সাইদুল ইসলাম সজলসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। সংঘর্ষে একপক্ষ ছিলেন নবগঠিত সভাপতি মিজানুর রহমান নাসিম ও সাধারণ সম্পাদক আল আমিন মোল্লার অনুসারীরা। অপর পক্ষ ছিলেন পদবঞ্চিত সাধারন সম্পাদক প্রার্থী এইচ এম হাসান ইমাম খোকন এবং সদ্য বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির আবুল বাশার বকুলের অনুসারীরা।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সভাপতি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, দলের যোগ্য, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন রাজপথে দেখা যায়নি, এমন ব্যক্তিকে সভাপতি করায় ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের দাবি, দলীয় আদর্শ ও ত্যাগের মূল্যায়ন করে নতুন করে কমিটি গঠন করতে হবে। নবাগত কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান নাসিম তার এলাকায়, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান এর আস্থাভাজন অনুসারী হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নবগঠিত কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান নাসিম বলেন, “আমাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। যে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছে, সেটিতে আমি কখনো স্বাক্ষর করিনি। স্বাক্ষর জাল করে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, মামলার রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেছেন এবং মামলা এখনো বিচারাধীন।
ঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপি এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও স্থানীয় নেতারা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply