>>স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বরিশালবাসী। >> ডাস্টবিন ও মাছ বাজারের পাশেই তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু রসগোল্লা। >> প্রশাসনের নীরবতায় জনমনে ক্ষোভ।
এইচ আর হীরা //
বরিশাল নগরীর মিষ্টির জগতে অন্যতম পরিচিত নাম ‘মুসলিম সুইটস’ বা ‘মুসলিম লাইফ রসগোল্লা’। নথুল্লাবাদ, সদর রোড, বটতলাসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে রয়েছে তাদের জমজমাট ব্যবসা। তবে এই জনপ্রিয়তার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। রাস্তার ধুলোবালি, মাছ বাজারের নোংরা পরিবেশ আর পোড়া তেলের সংমিশ্রণে তৈরি হচ্ছে এসব সুস্বাদু মিষ্টি ও বেকারি পণ্য। বারবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা গুনলেও বদলায়নি তাদের চিরাচরিত অস্বাস্থ্যকর চিত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকা থেকে এই প্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রম পরিচালিত হলেও নথুল্লাবাদ এলাকায় অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে মিষ্টি তৈরির কাজ চলছে। একদিকে মাছ বাজার, অন্যদিকে মাছ কাটার ময়লা আবর্জনার পাশেই অবাধে মশা-মাছি ও জীবাণুর রাজত্ব। কারখানার ঠিক বিপরীতেই রয়েছে ময়লা-আবর্জনার ডাস্টবিন। সেখান থেকে আসা দুর্গন্ধ ও রাস্তার ধুলোবালির মধ্যেই খোলা অবস্থায় তৈরি ও রাখা হচ্ছে বিভিন্ন পদের মিষ্টি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইতিপূর্বে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে দুইবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার মুখে পড়েছে মুসলিম সুইটস। কিন্তু অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই তারা আবার সেই পুরনো রূপে ফিরে যায়। নিম্নমানের উপকরণ এবং পোড়া তেল বারবার ব্যবহারের ফলে এসব খাবার এখন সাধারণ মানুষের জন্য ‘বিষে’ পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে মুসলিম সুইটসের স্বত্বাধিকারী মাহাবুব জানান, তারা কিচেন অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “আপাতত জায়গা না পাওয়ায় নথুল্লাবাদে মিষ্টি তৈরি হচ্ছে। বাজার কমিটির সাথে কথা হয়েছে, মাছ কাটার জায়গাটি আমাদের বরাদ্দ দেওয়ার কথা রয়েছে। সেটি পেলে সব সমস্যার সমাধান হবে।” তবে একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কীভাবে মাছ বাজারের নর্দমার পাশে গড়ে ওঠে, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মেলেনি।
চিকিৎসকদের মতে, এসব খাবার গ্রহণের ফলে বরিশালবাসী ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পরতে পারে। যেমন, ডায়রিয়া, আমাশয় ও জন্ডিস, লিভার ও কিডনির মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও, রাস্তার ধুলোবালিতে থাকা সিসা সরাসরি খাবারে মিশে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করছে।
বরিশাল নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা গোলাম রাব্বি জানান, জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকিতে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও অভিযোগের ভিত্তিতে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “মুসলিম সুইটসকে এর আগেও জরিমানা করা হয়েছে। যেহেতু তারা নিজেদের সংশোধন করেনি, তাই খুব শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বরিশাল নগরীর সচেতন মহল। তাদের মতে, কেবল জরিমানা নয়, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেওয়া উচিত।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply