খবর বরিশাল ডেস্ক
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে বরিশাল জেলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হলেও প্রার্থীদের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন, বহুস্তর নিরাপত্তা বলয় এবং জলপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা সুষ্ঠু ভোট পরিবেশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। একই সঙ্গে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সাংবাদিকদের অনুমতিপত্র ইস্যুতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভোটের দিন বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রায় ১৬ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা, মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং টহল জোরদার করে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে প্রশাসন। পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, আনসার, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড যৌথভাবে মাঠে থাকবে।
তবে প্রচার শেষের পর থেকেই একাধিক প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের শঙ্কার কথা তুলে ধরছেন। কয়েকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, এজেন্টদের বাধা এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, বাইরের এলাকা থেকে কর্মী এনে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। কেউ কেউ প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং ভোটের দিন কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য সাংবাদিকদের কার্ড প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার আবেদন জমা দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমতিপত্র না পাওয়ায় হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রগুলোকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক পুলিশ সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত ফোর্স রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ডজনখানেকের বেশি স্ট্রাইকিং ও মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।
সেনাবাহিনী প্রতি উপজেলা ও মহানগর এলাকায় আলাদা ইউনিট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ইউনিয়নভিত্তিক পেট্রোল টিমও থাকবে। সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে বিজিবির একাধিক প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।
নদীবেষ্টিত বরিশালে জলপথ নিরাপত্তাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর জাহাজ নদীপথে টহল দিচ্ছে, কোস্ট গার্ড সদস্যরা উপকূলঘেঁষা ইউনিয়নগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন এবং নৌপুলিশ নির্দিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করছে। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি আসনে মোট কয়েকশ ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার বড় একটি অংশ গুরুত্বপূর্ণ বা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে বরিশালের ছয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে তিন ডজনের কাছাকাছি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও মাঠের অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগে শেষ মুহূর্তে উত্তাপ ছড়াচ্ছে নির্বাচনী পরিবেশ।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply