শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৪:৩৮

শিরোনাম :

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরে গ্রু‌পিং অ‌স্থিরতা

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক : ড্যাবের মধ্যকার গ্রুপিং ছড়িয়ে পড়েছে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরে। গ্রুপিংয়ের অংশ হিসেবে ড্যাবের সদস্য ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের পথ থেকে অপসারনের দাবীতে শেবাচিম মেডিকেল কলেজের একটি অংশ বিক্ষোভ করেছে। তাকে অপসারণের জন্য মব সৃষ্টির পায়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ড্যাবের নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে বরিশালের একটি গ্রুপ এই মব সৃষ্টি করতে চাচ্ছে বলে এ অভিযোগ। মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) বেলা ১২ টার দিকে ২০/২৫ জন ব্যক্তি চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের ব্যানারে বিভাগীয় স্বাস্থ্য ভবনের সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করে। তবে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মঞ্জুর এ মোর্শেদ আন্দোলনকারীদের কাউকে চেনেননা বলে দাবী করেন।

জানা গেছে, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক করোনা যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ডাঃ মনিরুজ্জামান শাহীনকে গত ৫ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক চলতি হিসেবে পদায়ন করা হয়। ৬ জুলাই তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদানও করেন। এক সময়ের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপ-পরিচালক হিসেবে চাকুরি করা এই করোনা যোদ্ধা চিকিৎসক আবারও এই বিভাগে যোগদান করেছেন খবরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মিডিয়ায় সংবাদটি ছাপা হয়েছে। এরকম মানবিক ডাক্তার বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব পাওয়ায় দপ্তরটির বিভিন্ন অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে আনন্দ ফিরে আসে। তবে যোগদানের একদিনের মাথায় বেশ কিছু ব্যক্তি নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ডস্থ বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের সামনে ২০/২৫ জনার একটি গ্রুপ ৭ জুলাই একটি প্রতিবাদ সভা করেন। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যানারে প্রতিবাদকারীরা নতুন স্বাস্থ্য পরিচালকের অপসারণ দাবী করেন। তারা তাকে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর অ্যাক্ষা দেন। বিক্ষোভ প্রতিবাদের খবর পেয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে গেলেও সল্প সময়ের ব্যাবধানে কাউকে পায়া যায়নি। সেখানে উপস্থিত বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মচারীদের কাছে বিক্ষোভকারীদের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তারাও তাদের চেনেননা বলে দাবী করেন। ঘটনার সময় ওই ভবনে থাকা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মঞ্জুর এ মোর্শেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কিংবা সিভিল সার্জন অফিসের কেউনা। তিনিও কাউকে চেনেনা বলে দাবী করেন। তাহলে কারাইবা পরিচালক অপসারণের দাবী জানাচ্ছে, কি বা তাদের উদ্দেশ্য। এ নিয়ে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদল নেতা প্রিন্স ঘটনাস্থলে ছিলেন। যদিও মেডিকেল কলেজের সাথে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রশাসনিক কোন কার্যক্রম নেই। তারপরও কেন তারা আন্দোলন করেছেন তা খোজ নিয়ে জানা যায়, ডাক্তার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিচালকের বিরুদ্ধে এই মব সৃষ্টি করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চিকিৎসক জানান, ডাঃ এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে ড্যাবের আজীবন সদস্য হন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ড্যাবের পক্ষ থেকে পটুয়াখালী ২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচন মেডিকেল টিমের সদস্য ছিলেন। তবে অভ্যন্তরীন গ্রুপিং নিয়ে বিরোধ তৈরী হয় ড্যাবের জেলা সভাপতি ডাঃ কবিরুজ্জামান ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল শাখা সভাপতি ডাঃ নজরুল ইসলামের সাথে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, যারা এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে তাদের সাথে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের কোন সম্পর্ক নেই। বরিশাল ড্যাবের নিয়ন্ত্রনকারী অনেকে চাচ্ছেননা তিনি বরিশালের স্বাস্থ্য বিভাগের কোন দায়িত্বে আসেন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দিতা থেকেই এরকমটা করা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি। মুলত প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই এ আন্দোলন। মবের মাধ্যমে তাকে চেয়ার থেকে অপসরারণের চেষ্ট চলছে। এটা কোন ব্যক্তির দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে এরকম দাবী উঠেছে বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
ডাঃ মনিরুজ্জামানের সাথে কোন বিরোধ নেই দাবী করে ড্যাবের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ নজরুল ইসলাম জানান, ডাঃ মনিরুজ্জামান ড্যাবের আজীবন সদস্য ছিলেন। তবে শের-ই-বাংলা হাসপাতালে কর্মরত থাকাকালীন তার অনেক কর্মকান্ড জাতীয়তাবাদী আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক হয়। যা তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন জানান, ড্যাবের গ্রুপিংয়ের কারনে একটি গোষ্ঠিকে তার বিরুদ্ধে ভুল বুঝিয়ে নামানো হয়েছে। আবার আরেকটি গ্রুপ তাকে সমর্থনও দিচ্ছেন। এটা সংগঠনের কয়েকজনার সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারনে হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সরকারি অনেক কর্মসূচিতে পদাধিকার বলে অংশ নিতে হয়। যার সাথে দলের আদর্শের কোন সম্পর্ক থাকেনা। চেয়ারে থাকলে বাধ্য হয়েই সেসব কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করতে হয় বলে দাবী করেন ডাঃ মনিরুজ্জামান শাহীন।
ড্যাবের জেলা সভাপতি ডাঃ কবিরুজ্জামান জানান, ডাঃ মনিরুজ্জামান ছাত্র জীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো এটা সত্য। আবার চাকুরিতে দায়িত্বশীল পদে থাকলে সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করতে হবে এটাও ঠিক। কিন্তু যেহেতু তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শে মানুষ তাই তাকে অবশ্যই ঝুকি নিয়ে হলেও ওইসব কর্মসূচি ত্যাগ উচিৎ ছিলো।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net