বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৮:২৭

শিরোনাম :
দক্ষিণাঞ্চলের ২ হাজার ৫৯৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক স্বামীকে হত্যা করে ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্ত্রী বরিশালে বাসচাপায় মাদ্রাসাশিক্ষিকা নিহত অবশেষে সমকালের পাওনা টাকা বুঝে পেল নিহত সাংবাদিক পুলকের পরিবার বেড নেই, মেঝে ও সিঁড়িতেই ডেঙ্গু চিকিৎসা পিরোজপুরে ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার বরিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ নেতা গ্রেপ্তার বরিশালে স্ত্রী হত্যায় প্রকৌশলী স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বরিশালের ইন্দো বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস কারখানা বন্ধ ঘোষণা ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগে ২২ নম্বর ওয়ার্ডকে বাল্যবিয়ে-শিশুশ্রমমুক্ত করার অঙ্গীকার

নতুন ভবনের অপেক্ষায় ১৫০ শিক্ষার্থী, তপ্ত টিনশেডেই চলছে পাঠদান

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক : পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশ্চিম শারিকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী টিনশেড ভবনে পাঠ নিচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে টিনের ছাউনির নিচে অসহনীয় পরিবেশ এবং বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি ও বিকট শব্দের কারণে তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে নির্মিত মূল ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ২০২৪ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে পরিত্যক্ত করা হয়। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মিত টিনশেডের তিনটি কক্ষে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান শুরু হয়। একই ভবনে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়, শিক্ষক কক্ষ, লাইব্রেরি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা বাড়ার সাথে সাথে শ্রেণিকক্ষগুলো অত্যন্ত গরম হয়ে ওঠে। ফ্যান স্থাপনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা খাতা দিয়ে বাতাস করে এবং বারবার বাইরে গিয়ে পানি পান করতে বাধ্য হয়। বৃষ্টি শুরু হলে টিনের চাল বেয়ে পানি পড়ার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যায়। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাইয়ুবা জামান জানায়, প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় কক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় সে কয়েকবার জ্বর, ঠান্ডা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানায় সে।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম সোহান বলেন, এমন অনিরাপদ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোতালেব মৃধা বলেন, শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান, শিক্ষক কক্ষ ও লাইব্রেরির কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম একাধিকবার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। নতুন ভবনের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী জেলার ২৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এসব বিদ্যালয়ের তালিকা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ করিম বলেন, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। পশ্চিম শারিকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।
এদিকে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল কবির জানান, জেলার প্রায় ৩০০ ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ মিললে পর্যায়ক্রমে নির্মাণকাজ শুরু হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net