খবর বরিশাল ডেস্ক: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে সরকারি দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত শত শত কম্বল ফেলে রাখার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হলেও টানা বৃষ্টিতে কম্বলগুলো পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর প্রায় ১টার দিকে গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের উত্তর পাশে রাস্তার ধারে বিপুল পরিমাণ কম্বল পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে জানা যায়, মৃত বাদশা হাওলাদারের ছেলে শাওন সজলের ব্যবহৃত একটি গোডাউন থেকে কম্বলগুলো বের করে সেখানে রাখা হয়েছে।
কম্বলগুলোর গায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম এবং সরকারি সিলমোহর থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে শাওন সজল বলেন, ঘরটি তার ছোট ভাই আতিকুরের, যিনি বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন ঘরটি পরিত্যক্ত ছিল। স্থানীয় একটি ক্লাবের সংস্কারকাজ চলাকালে ক্লাবের সদস্যরা সেখানে কম্বলগুলো রেখেছিলেন। পরে ঘরটি ভাড়া দেওয়ার সময় তারা কম্বলগুলো বের করে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রেখে যান। এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, গত বছরের ৫ আগস্টের আগেই তৎকালীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার মাধ্যমে সরকারি গুদাম থেকে কম্বলগুলো সরিয়ে ওই গোডাউনে রাখা হয়েছিল।
ঘটনাটি গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের নজরে এলে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে।
উজিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহেশ্বর মণ্ডল জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা বলেন, গত ৫ আগস্টের আগে কার মাধ্যমে বা কী কারণে কম্বলগুলো গোডাউনে রাখা হয়েছিল এবং পরে কেন সেগুলো রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং সরকারি সম্পদ উদ্ধার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা পেলেই পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply