সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:৫৬

শিরোনাম :

স্ত্রীকে না জানিয়ে আবারও বিয়ে, বেতন বাড়ছে না পাসপোর্টের কর্মচারীর

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক : দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পূর্বানুমতি না নেওয়া এবং প্রথম স্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত না করার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মচারীকে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত কর্মচারীর নাম মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বরিশাল বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত। আদেশ জারির তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তার বার্ষিক বর্ধিত বেতন স্থগিত করার লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নূরুল আনোয়ার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ দণ্ড দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, শরিফুল ইসলাম ২০১২ সালের ৬ এপ্রিল রেশমা খাতুনকে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন। তাদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। পরে ২০২০ সালের ২৯ মে তিনি সিমি আক্তার নামে আরেক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন।

তবে দ্বিতীয় বিয়ের আগে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান/সালিশি পরিষদের কাছ থেকে আইনানুগ পূর্বানুমতি নেননি তিনি। একই সঙ্গে প্রথম স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রথম স্ত্রী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা নম্বর রুজু করা হয়। গত ১৯ জুলাই তাকে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠানো হয়। অভিযোগের বিষয়ে শরিফুল ইসলাম ২৯ জুলাই লিখিত জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। পরে ১১ আগস্ট তার ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত শুনানিতে দেওয়া বক্তব্য, লিখিত জবাব, দাখিল করা নথিপত্র এবং তার চাকরিকালসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে লঘুদণ্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে শরিফুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদেশ জারির তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তার বার্ষিক বর্ধিত বেতন স্থগিত করার লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net