খবর বরিশাল ডেস্ক:
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার তালতলা বাজারে দোকান নির্মাণের সময় একটি জীবন্ত তালগাছ না কেটে সেটিকে দোকানের মাঝখানে রেখেছেন মনজুরুল ইসলাম মুন্সী। গাছটির চারপাশে ইট-সিমেন্টের কাঠামো তৈরি করে অক্ষত রেখেই দোকানঘর নির্মাণ করেছেন তিনি। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, একসময় তালতলা এলাকাজুড়ে অসংখ্য তালগাছ ছিল। এসব গাছের কারণেই এলাকাটির নামকরণ হয় তালতলা। সময়ের সাথে সাথে অধিকাংশ তালগাছ হারিয়ে গেছে। এমন বাস্তবতায় এলাকার ঐতিহ্য ধরে রাখতে দোকান নির্মাণের সময় পুরোনো তালগাছটি না কেটে চারপাশে কাঠামো তৈরি করে সংরক্ষণ করেছেন মনজুরুল ইসলাম। ফলে এখন দোকানের মাঝেই দাঁড়িয়ে রয়েছে জীবন্ত তালগাছটি।
গাছটি বাঁচিয়ে রাখতে অতিরিক্ত ব্যয় হলেও তাঁর এ উদ্যোগ প্রকৃতি, পরিবেশ ও স্থানীয় ঐতিহ্য রক্ষার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি গাছ সংরক্ষণও যে সম্ভব, মনজুরুলের উদ্যোগ তা দেখিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসান আল বকর মেছাল বলেন, ‘তালগাছটি বাঁচিয়ে রাখতে ঘরের মালিক অনেক চেষ্টা করেছেন এবং অনেক টাকা ব্যয় করেছেন। যেখানে মানুষ ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য গাছ কেটে ফেলছেন, সেখানে একটি গাছকে বাঁচিয়ে রাখতে এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আগামী পাঁচ বছরে ২০ থেকে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রয়েছে, সেই জায়গা থেকে আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। তাদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও গাছ বাঁচাতে উৎসাহিত করবে।’
মনজুরুল ইসলাম মুন্সী বলেন, ‘একসময় এই তালতলা এলাকাজুড়ে অসংখ্য তালগাছ ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অধিকাংশ গাছই হারিয়ে গেছে। ঐতিহ্য ও পরিবেশের কথা ভেবে দোকান নির্মাণের সময় গাছটি কেটে ফেলিনি। বরং গাছটি রেখেই চারপাশে দোকান তৈরি করেছি। এই গাছ শুধু কাঠ নয়, এটি আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। এই গাছটি বাঁচিয়ে রাখতে আমার প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি ব্যতিক্রমী ও শিক্ষণীয় উদ্যোগ। গাছটি না কেটে বরং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নের সময় বৃক্ষ নিধন না করে এভাবে গাছ সংরক্ষণ করা হলে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।’
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply