বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:৫৬

শিরোনাম :
বরিশালে ২৪ ঘণ্টায় হামে দুই শিশুর মৃত্যু ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, আদালতে মামলা চেয়ার-সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন নয় : হাইকোর্ট ৩০ বছরেও হয়নি সেতু, জীর্ণ বাঁশের সাঁকোই ৫ গ্রামের ভরসা স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির পর যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঈদে মিলাদুন্নবীতে আজ দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকবে নানা আয়োজন র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ শিক্ষার্থীকে শোকজ পিরোজপুরে কুয়েত প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি গৌরনদীতে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, চাচাতো চাচার বিরুদ্ধে মামলা বরিশাল বিএম কলেজে বিসিএস শিক্ষকদের কলমবিরতি

ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, আদালতে মামলা

dynamic-sidebar

খবর বরিশাল ডেস্ক :

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক প্রবাসীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁর স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক গৃহবধূ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি মামলা করেন আগৈলঝাড়া উপজেলার উত্তর চাদত্রিশিরা গ্রামের বাসিন্দা মুক্তা বেগম (৪৯)। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বড় বাশাইল গ্রামের বেলায়েত হাওলাদারের ছেলে আকাশ হাওলাদার (৩৫) ও উত্তর চাদত্রিশিরা গ্রামের ফয়জুদ্দিন খানের ছেলে বাবুল খান (৪০) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মুক্তা বেগমের স্বামী প্রায় তিন বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তিনি আট বছরের মেয়েকে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সাড়া না দেয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার ও ক্ষতির চেষ্টা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার বর্ণনায় বাদী বলেন, গত ৯ আগস্ট বিকেলে তিনি ও তাঁর নাবালিকা মেয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন তাঁদের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়েন। পরিচয় জানতে চাইলে প্রধান অভিযুক্ত আকাশ নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং দরজা খুলতে বলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, দরজা খোলার পর আকাশ ও বাবুল জোর করে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে আকাশ গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধরে শ্লীলতাহানি করেন এবং হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় অপর অভিযুক্ত ও সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা দরজার বাইরে অবস্থান করে পাহারা দিচ্ছিলেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

বাদীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং যাওয়ার সময় প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মুক্তা বেগমের অভিযোগ, ঘটনার পর তিনি আগৈলঝাড়া থানায় গিয়ে মামলা করার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ তদন্তের কথা বলে মামলা গ্রহণে বিলম্ব করে। মামলার প্রধান আসামির সঙ্গে থানার কিছু কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এমনটি হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

পরে স্বজনদের পরামর্শে তিনি বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নালিশি আবেদন করেন। আদালত অভিযোগ পর্যালোচনা করে আগৈলঝাড়া থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে বুধবার (২৬ আগস্ট) আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুসংকর মল্লিক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আমাদের ফেসবুক পাতা

© All Rights reserved © 2018 KhoborBarisal.com

Desing & Developed BY EngineerBD.Net