খবর বরিশাল ডেস্ক ::
ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের দিদারুল্লা গ্রামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ মায়ের বিরুদ্ধে। এ সময় ওই নারীর হাতে থাকা স্বর্ণের আংটি ও গলার চেইন ছিনিয়ে নেয়ারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত রুমা বেগম (২১) বর্তমানে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও আল আমিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হামলার ঘটনায় আহত রুমা বেগমকে প্রথমে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠান। পরে তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী রুমা বেগমের অভিযোগ, তার বাবা হানিফ মৃদ্ধার দ্বিতীয় স্ত্রী সোনিয়া বেগম ১০ থেকে ১২ জন বহিরাগত লোক নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে তার ওপর হামলা চালান। মারধরের একপর্যায়ে তার পরনের পোশাক ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় এবং হাতে থাকা সোনার আংটি ও গলার চেইন নিয়ে যাওয়া হয়।
রুমা বেগম বলেন, তার মা মারা যাওয়ার দীর্ঘদিন পর পরিবারের সম্মতিতে প্রায় তিন মাস আগে তার বাবা সোনিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের কয়েকদিন পর থেকেই সোনিয়া তার বাবার সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে তার বাবা রাজি না হওয়ায় সোনিয়া বাড়ি থেকে চলে যান। এ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার পারিবারিক বিরোধ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রুমা বেগমের আরও বলেন , শুক্রবার বিকেলে তিনি বাড়ির সামনের সিঁড়িতে বসে ছিলেন। এ সময় সোনিয়া বেগম এসে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরু করেন। তিনি বাবার সম্পত্তির বিষয়ে কিছু জানেন না বলার পর সোনিয়া তার ওপর চড়াও হন। পরে ১০ থেকে ১২ জন লোক নিয়ে এসে তার ওপর হামলা চালানো হয়।রুমা বলেন, আমি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা—এ কথা জানানোর পরও তারা আমাকে মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে আমার সোনার আংটি ও গলার চেইন নিয়ে যায়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বাবার প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরেই তার ওপর হামলা করা হয়েছে।
রুমার স্বামী আল আমিন বলেন, আমার স্ত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সম্পত্তির বিরোধ থাকলে সেটা আমার শ্বশুরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা উচিত। আমার স্ত্রী ও অনাগত সন্তানের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অভিযোগের বিষয়ে সোনিয়া বেগমের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফকরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply