খবর বরিশাল ডেস্ক :
নারী কেলেংকারীসহ বহু অঘটন পটিয়াসি ডিডাব্লিউএফ নার্সি কলেজের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। প্রশিক্ষণের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগসমূহের প্রমাণ মেলায় তার বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি সোমবার বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলে বিতর্কিত ডিডাব্লিউএফ নার্সি কলেজ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। চলতি বছরের শুরুর দিকে এনিয়ে সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফুসে উঠলে বিষয়টি তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তৈরি করে। এবং সংবাদমাধ্যমে লেখালেখিতে এই জহিরুলের পরকীয়া প্রেমসহ বহুমুখী অপকর্ম প্রকাশ্যে আসে।
এসব ঘটনাসমূহ আদালতের নজরে আসলে তার বিরুদ্ধে স্বপ্রণোদিত হয়ে মিস কেস করেন বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরিয়ত উল্লাহ। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে অনিয়মগুলো তদন্তে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্তে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ মেলায় এবার ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজ চেয়ারম্যানের জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলো।
এর আগে আন্দোলনের মুখে শিক্ষার্থীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, যা নিয়ে এখনও ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ আছে, এই জহিরুল ইসলাম আইন লঙ্ঘন করে একই ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে অপকর্ম চালিয়েছেন। এবং প্রথম স্ত্রী মেহেরুন্নেছাকে জোরপূর্বক আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে বাধ্য করেছেন, যা সংবাদ সম্মেলন করে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রকাশ করেন তিনি।
মেহেরুন্নেছার অভিযোগ, চরিত্রহীন জহিরুল ইসলাম নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এর আগে তিনি আরেক শিক্ষার্থীর সাথে মুঠোফোনে আপত্তিকর কথাবার্তা বলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই মেহেরুন্নেছাও নারী নির্যাতনসহ বেশ কয়েকটি মামলা করেছেন জহিরুলের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ প্রথম স্ত্রী বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জহিরুলের সকল কুকীর্তি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।
মেহেরুন্নেছা অভিযোগ করেন, জহিরুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকলেও তিনি বরিশাল-বরগুনা-পটুয়াখালী বিভিন্ন স্থানে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এবং তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল নিতে বিভিন্ন কলাকৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন। কিছুদিন পূর্বে পটুয়াখালী সদরে মেহেরুন্নেছা যে বাসাটিকে বসবাস করতেন সেটিও তালাবদ্ধ করে দিয়েছেন।
এই মস্তবড় প্রতারকের বিরুদ্ধে এবার শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ সামনে আসল এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন খোদ আদালত।
আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সোমবার জানান, আদালত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে। একটি মামলায় তিনি আজ জামিনের আবেদন দিয়েছিলেন, পরে আবার ফেরত নিয়েছেন।
বিভিন্ন মাধ্যম জানা গেছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত জহিরুল ইসলাম বরগুনা সদর থানা পুলিশের এসআই সোহাগকে ব্যবহার করে প্রথম স্ত্রী মেহেরুন্নেছাকে হয়রানির ওপর রাখছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই সোহাগ বলছেন, জিডির অনুসন্ধান করছেন। তাহলে মেহেরুন্নেছার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীকে তিনি কোনো জহিরুলের ফোন ধরিয়ে দিলেন এমন প্রশ্ন করা হলে মাঠপুলিশ কর্মকর্তা কোনো সদুত্তোর দিতে না পেরে ফোনটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।’
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply