খবর বরিশাল ডেস্ক ::
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইইটি) রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কলেজটির বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট, প্রশাসনিক জটিলতা ও একাডেমিক স্থিতিশীলতার সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশালসহ দেশের চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে নিকটবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট হিসেবে গড়ে তোলার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্য তিনটি কলেজ হলো ফরিদপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।
গত ৫ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কারিগরি শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়। ওই চিঠিতে চারটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রস্তাব তৈরির কথা বলা হয়েছে।
চিঠিটি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষকসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর হওয়ার আশা
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের ব্যানারে দীর্ঘদিনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এস.এম. খালিদ সাইফুল্লাহ। তিনি বলেন, কলেজটিকে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে রূপান্তর করা হলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও বিশ্ববিদ্যালয় দুই প্রশাসনের পরিবর্তে একক প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।
খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট দূর করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সেমিস্টারের মাঝপথে যথেচ্ছ শিক্ষক বদলি বন্ধ করে একাডেমিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি কাজে লাগিয়ে নেভাল আর্কিটেকচার বিভাগ চালু করা সম্ভব হবে। দক্ষ ল্যাব জনবল নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়সংকটও দূর হবে।
কী পরিবর্তন আসতে পারে
সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট হিসেবে পরিচালিত হলে কলেজটির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কীভাবে সমন্বিত হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এ ক্ষেত্রে ডিগ্রি প্রদান, পাঠ্যক্রম, পরীক্ষা পরিচালনা, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এসব বিষয় নির্ধারণে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে কোন কলেজকে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়া হবে, রূপান্তরের সময়সীমা কত হবে কিংবা বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে কী প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
প্রস্তাব তৈরির পর্যায়ে উদ্যোগ
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করতে হবে। পাশাপাশি রূপান্তরের জন্য ধাপে ধাপে কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে, তা-ও প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, চারটি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। আপাতত এ পরিবর্তনের আইনি ভিত্তি, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বাস্তবায়নের ধাপ নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব তৈরির পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. লিটন রাব্বানী বলেন, বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউজিসিকে চিঠি দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইউজিসি থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে রূপান্তরের প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের অংশ। মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply