আর দু’দিন পরেই বত্রিশে পা রাখবেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। জন্মদিনের আগে আগে এই সময়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গতকাল চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠেন রিয়াদ।
দলের রান যখন ৪ উইকেটে ৩৫৬ তখন পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামেন টাইগারদের ভারপ্রাপ্ত এই অধিনায়ক। শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে একাই লড়াই করে ৮৩ রানে অপরাজিত থেকে দলের স্কোরকে নিয়ে যান ৫১৩ রানে। তার এই ক্যাপ্টেনস নকের ওপর ভর করে চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে দলীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই মাঠে টাইগারদের দলীয় সর্বোচ্চ রান ছিল ৫০৩। সঙ্গীর অভাবে শেষ পর্যন্ত নিজের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা না মিললেও দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন তিনি।
সেঞ্চুরি না পেলেও ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। চট্টগ্রাম টেস্টে মাঠে নামার আগে ৩৫ টেস্টে তাঁর পুঁজি ছিল ১৯৩১ রান। গতকাল ৬৯ রানের মাথায় দুই হাজারী ক্লাবের নতুন সদস্য হন এই অলরাউন্ডার।
এই লঙ্কানদের বিপক্ষে কলম্বোতে ২০০৭ সালের ২৫ জুলাই ওয়ানডে অভিষেকের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে পা রাখেন ময়মনসিংহের ছেলে রিয়াদ। মাসখানেক পর কেনিয়ার বিপক্ষে নাইরোবীতে টি টোয়েন্টি ক্রিকেটেও অভিষেক হয় তার। কিন্তু টেস্ট ক্যাপ পরতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় আরো প্রায় দুই বছর। ২০০৯ সালের ৯ জুলাই কিংসটাউনে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তার। অভিষেক টেস্টে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি তিনি।
২০১০ সালের শুরুর দিকে টেস্টে দারুণ ছন্দে ছিল তার ব্যাট। জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে চারটি হাফ সেঞ্চুরিসহ প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। ১৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম ভেন্যুতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন রিয়াদ। ১১টি চারের সাহায্যে ৬৯ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন তিনি। ২৪ জানুয়ারি ঢাকায় একই দলের বিপক্ষে প্রায় প্রথম সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সঙ্গীর অভাবে ৯৬ রানে অপরাজিত থাকতে হয় তাকে। ১৭৬ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ১৫৬ বল খেলে ১৩টি চারের সাহায্যে দুর্দান্ত ইনিংসটি রচনা করেন রিয়াদ। তবে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির জন্য খুব বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়নি তাকে। ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া হ্যামিল্টন টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেই কাঙ্ক্ষিত শতকের দেখা পান। ১৯০ মিনিট ক্রিজে থেকে ১৭৭ বলে ১১৫ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি ১৭টি চার ও ২টি বিশাল ছক্কায়। চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে একই বছর ১২ মার্চ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটির দেখা পান। ২০ মার্চ ঢাকায় পরের টেস্টে আসে চতুর্থ ফিফটি।
টেস্টে সবচেয়ে বেশি চারটি ফিফটি রিয়াদ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এছাড়া ভারত ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনটি করে এবং ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২টি করে ফিফটি পেয়েছেন তিনি। ৩৬ টেস্টে ৩১.৫৬ গড়ে ১৫টি ফিফটি ও ১টি সেঞ্চুরিসহ ২০১৪ রান করেছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply