প্রথমবারের মতন ক্লোন করেছে চীন। তাও আবার বানর। দুই বানর শিশুর নাম ঝং ঝং এবং হুয়া হুয়া। তাদের দুজনের বয়স এখন আট সপ্তাহ। ক্লোনের মাধ্যমে দুই বানর শিশুর জন্মের ঘটনা প্রকাশ পাবার পর বিজ্ঞান জগতে আলোড়ন ওঠে। তাদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।
চীনা বিজ্ঞানী কিয়াং সান জানান- মানুষের জিনগত ত্রুটি থেকে আলজেইমার, পারকিনসন্স, ডায়বেটিস বা ক্যান্সারের মতন রোগের গবেষণা ও নিরাময়ের কাজে লাগানো হবে এ বানরদের। বর্তমানে এ ধরনের গবেষণায় গিনিপিগ ব্যবহার করা হয়। তাই এই লম্বা লেজওয়ালা এই ক্লোন বানরদের এ ধরনের গবেষণা কাজে লাগানো হলে এক্ষেত্রে যুগান্তকারী অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হবে। বিজ্ঞানীদের কাছে ক্লোন করা এসব বানর রোগ গবেষণায় মানুষের সবচেয়ে নিকটতম জৈবিক মডেল।
বর্তমানে এ ধরনের গবেষণার কাজে গিনিপিগ ব্যবহার করা হয়। ক্লোন করা বানর ব্যবহার করা হলে গবেষণার ক্ষেত্রে আরও অনেক দ্রুত এগোনো যাবে। এমনকি মানুষের ক্লোন করার দিকে বিজ্ঞান আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে ধারনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা এবারই প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীরা কোনো প্রাইমেট গোত্রের প্রাণিকে ক্লোন করতে সফল হয়েছে।
ক্লোন করা বানর শাবক দুটিকে বোতলে দুধ খাওয়ানো হচ্ছে। অন্যসব সাধারণ বানর শাবকের মতোই এরা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে। সামনের কয়েক মাসে ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে এরকম আরও বানর শাবক জন্ম দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চীনা গবেষকরা।
প্রণিবিজ্ঞানীদের অনেকেই ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে বানর শাবক জন্ম দেয়ার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেননা বানর হচ্ছে জেনেটিক গঠনের দিক থেকে মানুষের খুব কাছাকাছি প্রাণী। যারা এ ব্যাপারে নৈতিকতার প্রশ্নটি সামনে এনেছেন তাদের মধ্যে আছেন কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড্যারেন গ্রিফিন। তিনি মন্তব্য করেছেন, এধরনের গবেষণার মাধ্যমে মানুষের ক্লোনিং খুবই কাছাকাছি চলে এসেছে। কিন্তু পৃথিবী এখনো ক্লোন করা মানুষকে নৈতিক এবং সামাজিক ভাবে মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত কিনা সেটা আগে ভেবে দেখতে হবে।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply