তালাশ ডেক্সঃ
২৩ মার্চ “বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল ২০১৭” এর বিশেষ বিধান প্রসঙ্গে ইয়াং চেঞ্জ মেকারস্ কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।উক্ত সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন মোহাম্মদ সাজেদ- সদস্য ইয়াং চেঞ্জ মেকারস কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ, বিথী আক্তার, শিশু সাংবদিক, বরিশাল ন্যশনাল চিলড্রেন টাস্ক ফোর্স (এনসিটিএফ), সাদিয়া আক্তার, সদস্য, এনসিটিএফ এবং শামিম আহমেদ, ইয়ূথ ভলান্টিয়ার, এনসিটিএফ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে সরকারের কাছে বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল ২০১৭ এর বিশেষ বিধানটি বাতিলের আহবান জানান। উল্লেখ্য বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল ২০১৭ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মহান সংসদে পাস হয়েছে এবং গত ১১ মার্চ মহামান্য রাস্ট্রপতি তাতে সাক্ষর করেছেন। এই বিলে বিশেষ বিধানটি স¤পর্কে বর্ণিত আছে, “বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনা করে,পিতা-মাতা ও অভিভাবক এবং আদালতের অনুমোদনক্রমে বিবাহ কার্য সম্পন্ন হয়ে থাকে তাহলে তা অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না কিংবা অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হবে না।” ইতোমধ্যে এই বিলের খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয় এবং গত ১২ মার্চ মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে যেখানে সুশীল সমাজ, সরকারের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ এবং শিশু নীতি ২০১১ অনুযায়ী শিশুদের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় শিশুর মতামত নেয়ার বিধান রয়েছে উল্লেখ করে বক্তাদের মধ্যে আয়েশা আকতার কেয়া দুঃখ প্রকাশ করে বলেন ”খসড়া বিধিমালা নিয়ে মতবিনিময় সভায় কোন শিশু বা তরুণ আমন্ত্রিত ছিলনা।”
ইয়াং চেঞ্জ মেকার্স কোয়ালিশনের ইন বাংলাদেশ এর পক্ষ থেকে চাইল্ড শামিম আহমেদ বিবৃতি পাঠের মাধ্যমে সরকারের কাছে নি¤œক্তো সুপারিশগুলো তুলে ধরেনঃ
অতি দ্রুত বিধি প্রণয়ন করা: বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল ২০১৭ এর বিশেষ বিধান এর অপব্যবহার রোধ করার লক্ষ্যে অভিভাবক এবং শিশুদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাসহ অতিসত্বর এর বিধিপ্রণয়ন করার দাবি জানাচ্ছি।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কমিটিসমূহের সাথে শিশুকল্যান বোর্ডের সমন্বয়: বাল্যবিবাহ নিরোধ বিধিমালা ২০১৭ এর খসড়ায় উল্লেখিত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কমিটিসমূহ(৩) এর সাথে শিশুকল্যান বোর্ডের সাথে সমন্বয়ের বিষয়টি কমিটির কার্যাবলীতে উল্লেখ করা। স্থানীয় শিশু কল্যাণ বোর্ড, আইন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সকলের সাথে সমন্বয় সাধন কৌশল উল্লেখ করা।
বাল্য বিবাহের বিশেষ বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থটি কি প্রক্রিয়ায় নিশ্চিত করা হবে এ বিষয়ে বিধিতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা/ব্যাখ্যা প্রদান জরুরি।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক/ শিশুর মতামতকে বাধ্যতামূলক করা।বাল্য বিবাহের বিশেষ বিধান প্রয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রাপ্ত বয়স্ক/ শিশুর বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলে এবং মেয়ে উভয় এর মতামত নেয়ার প্রক্রিয়া এবং আদালতের মাধ্যমে তার স্বাধীন মতামতকে প্রকাশ করার বিষয়ে বিধিতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা। বিশেষ করে কখন পিতামাতার মতামত দরকার হবে, কোন পরিস্থিতিতে আদালতে যেতে হবে অথবা কীভাবে ভেরিফিকেশন করা হবে এর একটি সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া বর্ণিত থাকা।
মনিটরিং সেল গঠন করা : এ আইনের বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করার জন্য সরকার, নাগরিক সমাজ, বিচার বিভাগ এবং শিশু প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা। আইনটি বা আইনের বিশেষ বিধানের কোন ধরনের অপব্যবহার ঘটলে তা দ্রুততার সাথে চিহ্নিত করে শোধরানোর জন্য এ মনিটরিং সেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কোয়ালিশন আশা করছে।
বাল্য বিয়ের শাস্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে: বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এ উল্লেখিত শাস্তির প্রয়োগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। এ লক্ষ্যে বিচার প্রক্রিয়ায় জড়িত সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রশিক্ষণ প্রদান সহ বিচার কার্যের সমন্বয় নিশ্চিত করারও আহ্বান জানাই। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিচেনায় কোনোভাবেই কোন যৌন নিপীড়কের সাথে শিশুর বিয়ের সুযোগ যেন না থাকে এই বিষয়ে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী জাতীয় কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা:বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে প্রণিত আইন অনুযায়ী জাতীয় কর্মপরিকল্পনাকে পর্যালোচনা করা এবং এর সুপারিশ সমূহের কার্যকর প্রতিফলনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা।
স্থানীয় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ কমিটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা: আইনটিতে উল্লিখিত স্থানীয় বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ কমিটির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সচল করার জন্য আশু পদক্ষেপ গ্রহন করা ।
অন্যান্য বক্তারা “বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল ২০১৭” বিধামালা প্রণয়নে শিশু এবং তরুণদের মতামত শোনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।
Desing & Developed BY EngineerBD.Net
Leave a Reply